শিরোনাম
প্রচ্ছদ / রাঙ্গামাটি / কাপ্তাইয়ে লেকে পানির উচ্চতা হ্রাস পাচ্ছে কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

কাপ্তাইয়ে লেকে পানির উচ্চতা হ্রাস পাচ্ছে কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

কাপ্তাইয়ে লেকে পানির উচ্চতা হ্রাস
পাচ্ছে কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন
॥ কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই ॥
বাংলাদেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে অবস্থিত। ‘কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ (কপাবিকে) নামে পরিচিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান উপকরন হলো পানি। পানির সাহায্যে অত্যন্ত কম খরছে এখানে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। কাপ্তাই লেকে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট মীন সী লেভেল। লেকে যত বৃষ্টিই হোক এই লেভেলের উপরে লেকে পাণি ধারণ করা যাবেনা। তখন অতিরিক্ত পানি স্পিল (গেইট) দিয়ে নদীতে ছেড়ে দিতে হয়। লেকে ১০৯ ফুট পানি থাকলে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি জেনারেটরের সবগুলো একত্রে চালু করে সর্বোচ্চ ২৪২ মেঘাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়। লেকে ৬৬ ফুট মীন সী লেভেলের নিচে পানির স্তর নামলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকেনা।
বর্তমানে প্রচন্ড খরার কারণে লেকের পানি দিন দিন কমছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুল কার্ভ (পানির স্তর) অনুযায়ী লেকে বর্তমানে ৮২.০৪ ফুট পানি থাকার কথা। কিন্তু লেকে পানি রয়েছে ৭৬ ফুট এম এসএল। পানির এই লেভেলও ঠিক থাকছেনা। সকালে পানির যে লেভেল দেখা যায় বিকালে পানির লেভেল আরো কমে যায়।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহমান লেকে বর্তমানে পানি কম থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন রুল কার্ভ অনুযায়ী লেকে বর্তমানে ৬ ফুটেরও বেশি পানি কম রয়েছে। পানি কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কপাবিকের একটি সুত্র জানায় রুল কার্ভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকলে বর্তমানে ২২০ মেঘাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতো। কিন্তু ৬ ফুটেরও বেশি পানি কম থাকায় বর্তমানে ১১০ থেকে ১২০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। সুত্রমতে প্রচন্ড গরমের কারণে দেশে বর্তমানে প্রতি মুহর্তে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি হবার কথা। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন বৃদ্ধির বদলে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একজন প্রকৌশলী বলেন, কবে বৃষ্টি হবে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। বৃষ্টি আসতে আরো দুই সপ্তাহ দেরি হলেও যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে না যায় সে জন্য সীমীতহারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে এমনিতেই লেকের পানি কমছে। তার উপর টানা খরা এবং লাখ লাখ মানুষ লেকের পানি ব্যবহার করার ফলে প্রতিদিন প্রায় এক ফুটের কাছাকাছি পানি কমছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে লেকে পানির স্তর অচিরেই ৬৬ ফুট এম এস এলে নেমে যাবে। আর ৬৬ ফুট এম এস এলে পানির স্তর আসলেই কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। সেই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে কিছুটা রেশনিং হারে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে বলে সুত্রে জানা গেছে।
এদিকে লেকের পানি অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় নৌ চলাচলে মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। পানির অভাবে লেকের সব রুটে বর্তমানে নৌ যান চলাচল করতে পারছেনা। স্বাভাবিক পানি থাকলে যে দুরত্বে ১০ মিনিটে যাওয়া যেত সেখানে এখন সময় লাগছে ৪০ মিনিটেরও বেশি। সহসা বৃষ্টি না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

পড়ে দেখুন

তৃণমূল সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন এ কে এম মকছুদ আহমেদ

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সমাজের সুষ্ঠু বিকাশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী …