শিরোনাম
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নেই : ফখরুল

ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নেই : ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৫ মে দেশের সব মহানগর ও জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। আর ঢাকা মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে ১৬ মে।
ভারতে এক বিএনপি নেতার সঙ্গে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির এক নেতার সাক্ষাতের খবরে ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এনেছেন, তা নাকচ করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তার দলের কোনো সম্পর্ক নেই। আর বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর ভারতে গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত সফরে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, কয়েকটি পত্রিকায় খবর এসেছে বিএনপির সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্পর্ক আছে। এটা সঠিক নয়। আমরা খুব স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বিএনপির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই। প্যালেস্টাইনের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বিএনপির। এর পক্ষে আমরা বরাবরই কথা বলে এসেছি। প্যালেস্টাইনের জনগণের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ, আগ্রাসনের বিষয়ে আমরা সবসময় প্রতিবাদ করেছি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি প্যালেস্টাইনের জনগণের পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ভারতে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির কথিত সেই বৈঠকের খবর ও একটি গ্রুপ ছবি প্রকাশিত হয়।
এরপর গত ১০ মে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে বলে সরকারের হাতে খবর আছে। বাংলাদেশকে ‘বিব্রত করার জন্য’ বিএনপি অব্যাহতভাবে ‘চক্রান্ত করে যাচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেন এই প্রতিমন্ত্রী।
এর প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বিএনপি একটি উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।… সরকার পরিবর্তন সম্ভব শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে, অন্য কোনো পথে সরকার পরিবর্তনের কথা বিএনপি চিন্তাও করে না।
তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যথেষ্ট প্রমাণ আছে তাদের কাছে, যা দিয়ে তারা বিএনপিকে নিষিদ্ধও করতে পারে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্কই নেই।”
আসলাম চৌধুরী ইতোমধ্যে তার দিল্লি সফর ও ওই ছবির সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। একাধিক পত্রিকা ও টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, তিনি জানতেন না যে মেন্দি এন সাফাদি ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা। আর ওই সফর ছিল তার ব্যক্তিগত, দলীয় বিষয় নয়।
সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, যার কথা (আসলাম চৌধুরী) আপনার বলছেন, তিনি আমাদের একজন কর্মকর্তা। আমাদের দায়িত্ব বিষয়টা পরিষ্কার করা যে এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি ইতোমধ্যে প্রতিবাদও জানিয়েছেন। এটা তার ব্যক্তিগত ভিজিট ছিল। তিনি তার বক্তব্যে তা বলেছেন।”
মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সব সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে। তবে সেই বিচার হতে হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যতিত স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ।’
৯ মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী বিশেষ করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করে চলেছেন এবং একজন ফাঁসি চেয়েছেন। এ ধরনের মন্তব্য তাদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। আমরা মনে করি, এটি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রীর বিরুদ্ধে এবং ভিন্ন মতের সকল রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করার নীল নকশা মাত্র।’ তাই এ ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য ও আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য আলমগীর হায়দার এবং শহীদুল ইসলাম মাস্টার, সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক ভূঁইয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৩৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যৌথসভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগে দেশের বরেণ্য সম্পাদক, সাংবাদিক, স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আধুনিক মনস্ক প্রবীণ লেখক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার, বেআইনীভাবে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে মানসিক নির্যাতন এবং কোনো শ্রেণি প্রদান না করেই কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
একই সঙ্গে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকা অবস্থায় মিথ্যা অভিযোগে ওই মামলায় সম্পৃক্ত করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানানো হয়। অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয় বলেও উল্লেখ করেন ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পেশকৃত অভিযোগপত্রে শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম উল্লেখ নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশে তাদের এ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ অভিযোগপত্রে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যাংকে রক্ষিত ৩০০ মিলিয়ন ডলারের যে উল্লেখ রয়েছে সে সম্পর্কে সরকার নীরব রয়েছে। এ পরিমাণ রক্ষিত অর্থ সম্পর্কে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোনয়ন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে এমন অভিযোগও করেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে দ্রুত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। শুধু সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জনগণের সরকার এ সংকটের অবসান ঘটাতে পারে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ।

পড়ে দেখুন

মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ড্রামা নতুন করে প্রকাশ্যে আসছে

মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ড্রামা নতুন করে প্রকাশ্যে আসছে। ড. মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতা হারানোর পর অনেকেই মনে …