শিরোনাম
প্রচ্ছদ / অর্থনীতি / মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত আপিলের রায়ে বহাল

মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত আপিলের রায়ে বহাল

এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিএসইসির করা আপিল মঞ্জুর করে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাই কোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করে।
এর ফলে অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা এইমস ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড ও গ্রামীণ ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটহোল্ডারদের টাকা ফেরত পেতে আর কোনো বাধা নেই বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন।
রায়ের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বিএসইসির আপিল মঞ্জুর করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এখন ইউনিটহোল্ডাদের টাকা ফেরত পেতে কোনো অসুবিধা নেই।
“অলরেডি লিকুইডিশনে চলে গেছে, আপিল শুনানির জন্য টাকাটা দেওয়া হয়নি এতোদিন। আজ থেকে ইউনিটহোল্ডারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে পারবে। ইতিমধ্যে ওইসব ফান্ডগুলো অবসায়ন হয়ে গেছে।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ হবে ১০ বছর এবং যেসব ফান্ডের মেয়াদ ১০ বছর পেরিয়ে গেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই আদেশের পরও বিএসইসি একাধিকবার মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ায়। এর পর ২০১৪ সালের ২৫ ও ২৬ জুন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ এর বিধি ৫০ (খ) অনুযায়ী, এইমস ও গ্রামীণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটহোল্ডারদের সভায় ফান্ড দুটির মেয়াদ সবোর্চ্চ অনুরূপ একটি মেয়াদের (১০ বছর) জন্য বর্ধিত করার পক্ষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু ইউনিটহোল্ডারদের সিদ্ধান্ত নাকচ করে বিএসইসি আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২৯ জুন অনুষ্ঠিত এক সভায় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধে্যে ফান্ড দুটির রূপান্তর/ অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।
ওই নির্বাহী আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এইমস ওয়ান ও গ্রামীণ ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের অন্যতম ইউনিট হোল্ডার আলী জামান গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিট আবেদন করে।
আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর এইমস ওয়ান ও গ্রামীণ ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধে বিএসইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাই কোর্ট।
ওই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে বিএসইসি চেম্বার বিচারপতির আদালতে গেলে ১৭ ডিসেম্বর অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়ে আবেদন নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেয়।
বিএসইসি এবং এইমস ওয়ানের কাস্টডিয়ান ব্র্যাক ব্যাংক ও ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইনসুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিআইসি) করা তিনটি আবেদন ১৮ জানুয়ারি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে।
ওই দিন আপিল বিভাগ পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করতে বলে। এ ছাড়া এইমস ওয়ান ও গ্রামীণ ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধ করার সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণার হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিএসইসির করা লিভ টু আপিলে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করে দুটি ফান্ডের ইউনিটধারী ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা, যা ১১ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর হয়।
সে দিন আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিএসইসির করা আপিল করার আবেদন (লিভ টু আপিল মঞ্জুর) শুনানির জন্য গ্রহণ করে। পাশাপাশি হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে ২৯ মার্চ শুনানির জন্য দিন রাখে। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ মে শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩১ মে রায়ের জন্য দিন রাখে।
আদালতে বিএসইসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বিজিআইসির পক্ষে এ এফ হাসান আরিফ ও ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন।
হাই কোর্টে রিট আবেদনকারী আলী জামানের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এইমস ওয়ান ও গ্রামীণ ওয়ানের পক্ষে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও মো. জহিরুল ইসলাম।
বিএসইসি কৌসুঁলি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রায়ের পর বলেন, “বিএসইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছিল এইমস ও গ্রামীণসহ মিউচুয়াল ফান্ডগুলো গত ডিসেম্বরের মধ্যে অবসায়ন করতে হবে। এটাকে চ্যালেঞ্জ করেই ইউনিট হোল্ডার আলী জামান এক ব্যাক্তি হাই কোর্টে মামলা করেন। হাই কোর্টে সে জিতে গিয়েছিল, এর বিরুদ্ধে বিএসইসি আপিল করেছিল। এই আপিল মঞ্জুর করেছে আপিল বিভাগ।
“ফলে সিদ্ধান্ত হল- বিএসইসির ক্ষমতা আছে শেয়ার মার্কেটের জন্য এ ধরণের নির্দেশ দেওয়ার।”
অন্যদিকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কৌসুঁলি মো. জহিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিজিআইসি ও ব্র্যাকের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি এবং বিএসইসি আপিল মঞ্জুর করে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর রিভিউ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

পড়ে দেখুন

রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জাহাজীকরনে জটিলতা :: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির উদ্বেগ প্রকাশ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খলিলুর রহমান গভীর উদ্বেগের সাথে …