শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ব্রেকিং নিউজ / ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন উদ্বোধন হওয়া জাতির জনকের স্মৃতি বিজরিত বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন উদ্বোধন হওয়া জাতির জনকের স্মৃতি বিজরিত বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র

॥ মোঃ মোস্তফা কামাল ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজরিত দেশের সর্ব প্রথম ভূ উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রটি এখন নানান সমস্যায় জর্জরিত। আংশিক চালু এই কেন্দ্রটি এখন কোন মতে তারে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। য়ে অবস্থায় বর্তমানে কেন্দ্রটি চালু রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিস্যতে এই কেন্দ্রটির কার্যক্রম ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে জাতির জনকের স্মৃতি বিজরিত এই কেন্দ্রটিকে পূর্ণোদমে চালু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আহবার জানিয়েছেন কেন্দ্রের কর্মকর্তা এবং সিবিএর নেতৃবৃন্দ।
১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বাঙ্গালী জাতির জনক সদ্য স্বাধীন প্রাপ্ত যুদ্ধ বিধ্বস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে উদ্বোধন করেছিলেন বেতবুনিয়া ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রের। সে সময় একটি সদ্য স্বাধীন প্রাপ্ত দেশের তথ্য প্রযুর্ক্তি উন্নয়ন এবং স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চালু করা হয় দেশের প্রথম এই ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রটির। ১৯৭০ সালে এই কেন্দ্রের নির্মান কাজ শুরু হলেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পরবতৃী সময়ে এই কেন্দ্রটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার এবং কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নানান চেষ্ঠা হলেও জাতির জনকের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে এই কেন্দ্রটির কাজ অব্যাহত থাকে। তদান্তীন পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বর্তমানের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া নামক স্থানে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের পাশবতী এলকায় ১২৮ একরের বিশাল জায়গার উপর স্থাপিত এই কেন্দ্রটিতে ৩৫,৯০০ কিলোমিটার উর্ধ্বমূখী আকাশে অবস্থি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্রুততার সাথে তথ্য আদান প্রদানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
ইতহাসের প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিত্র শক্তি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইœিদরা গান্ধী জাতির জনককে ভারতের ভূ ্উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির কাজ সম্পাদনের কথা বললেও সেই সময় জতির জনক এই আহবান বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করে নিজ দেশেি স্বাধীনভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সুদুর প্রসারী চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই স্বাধীন দেশে এই ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রটি চালু করেন।
তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ঠ জাতির জনককে স্ব পরিবারের নৃ শংস ভাবে হত্যাকান্ডের পর ক্ষতায় আসীন পরবর্তী স্বেরাচার সরকার এবং ৯০ এর পরবর্তীতে দু দফায় দেশ পরিচালনায় এসে বিএনপি জামাত জোট সরকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত এই ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রটিকে কার্যত অচল করে দেয় বলে অভিয়োগ করেছেন এই কেন্দ্রের সিবিএ নেতৃবৃন্দ। তবে তাদের আশাবাদ জাতির জনকের কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আবারো পূর্নোদমে চালু করবেন এই কেন্দ্রটিকে।
১২ জুন বেতুনিয়া ভূ উপগ্রহ কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত এই কেন্দ্রটির জীর্ন শীর্ণ অবস্থা । দেশের প্রথম এই ভ’ উপগ্রহ কেন্দ্রটি এখন চালু রয়েছে আংশিক ভাবে। এখানে কর্মরত কমৃকতৃা-কর্মাচারীদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকার কারনে প্রায় ৪৬ বছর আগের যন্ত্রপাতি দিয়ে এখনো কোনমতে চালু রাখা হয়েছে এই কেন্দ্রটিকে । অবাক করার বিষয় এই কেন্দ্রে নেই কোন জেনারেটর । ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির অধিকাংশই অচল থাকে । কেন্দ্রের প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এই কেন্দ্রের অনেক যন্ত্রপাতি ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে । এর ফলে ক্দ্রেটির কার্য ক্ষমতা ও বর্তমানে অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে ।
এই বিষয়ে বেতবুনিয়া ভূ উপকেন্দ্রের সিবিএর সভাপতি তকবীর হোসেন জানান এই ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রটি শুধূমাত্র দেশের প্রথম ভূ উপগ্রহ কেন্দই নয় এই কেন্দ্রটির সাথে জড়িত রয়েছে জাতির জনকের স্মৃতি । তাই এই কেন্দ্রটিকে কোন মতেই অচল হতে দেয়া যায়না। তিনি বলেন সিবিএর পক্ষ থেকে তিনি একাধিক বার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে এই কেন্দ্রটিকে আরো আধূনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন করে পুর্ণোদমে চালু করার আহবান জানিয়েছেন । সিবিএর সভাপতি আশাবাদী জাতির জনকের কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কেন্দ্রটিকে পূর্নোমে চালু করার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ এনায়েত উল্লাহ জানান ১৯৯৮ সালে এই কেন্দ্রটিকে ডিজিটাল এ পরিনত করা হয় । তবে কেন্দ্রটিকে পরিপূর্ন ভাবে চালুর বিষয়ে এখনো অনেক পদক্ষেপ এর প্রয়োজন। তিনি জানান এই কেন্দ্রে কর্মরত সকলেই চান এই কেন্দ্রটিকে পরিপূর্ন ভাবে চালু করা হবে। বসানো হবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। ৪৬ বছরের পুরানো যন্ত্রপাতি দিয়েও কেন্দ্রের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা সার্বক্ষনিক ভাবে এই কেন্দ্রটিকে সচল রাখার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন কালে দেখা গেছে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্থানে দাড়িয়ে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন সেই স্থানটিকে স্থায়ী ভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে সিবিএর উদ্যোগে। বঙ্গবন্ধুর ফলক উম্মোচনী পাথরটি বসানো হয়েছে মূল কার্যালয়ের সম্মূখ ভাগে। কেন্দ্রের উদ্বোধন শেষে যে জায়গা থেকে জাতির জনক হেলিকপ্টার করে উড্ডয়ন করেছিলেন সেই জায়গাটিকে সংরক্ষন করা হয়েছে। এখন এই স্থানটিকে ঈদগাহ মাঠ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …