শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বান্দরবান / উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের নির্যাতন ও হত্যার হুমকীতে বান্দরবান শহরে আশ্রয় নিয়েছে ৫০ উপজাতীয় পরিবার

উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের নির্যাতন ও হত্যার হুমকীতে বান্দরবান শহরে আশ্রয় নিয়েছে ৫০ উপজাতীয় পরিবার

॥ ছোটন বড়–য়া, বান্দরবান থেকে ॥ স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নির্যাতন ও হত্যার হুমকী হয্য করতে না পেরে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা গ্রাম ছেড়ে বান্দরবান শহরে আশ্রয় নিয়েছে উপজাতীয় ৫০ টি পরিবার। গত কয়েকদিন ধরে বান্দরবান শহরের অতিথি হোটেলের ১০ টি রুমে অনাহারে অধ্যাহারে দিন কাটাচ্ছে এই পরিবার গুলো। শহরে বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় শতাধিক গ্রামবাসী অবস্থান করছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নে তালুকদার পাড়ায় চাঁদাবাজির অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের দুই শসস্ত্র গ্রুপ। এসময় উগ্য চাকমা ও বিমল চাকমা নামের দুই সন্ত্রাসী আহত হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে বিমল চাকমাকে অস্ত্রসহ আটক করে। সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতির জন্য স্থানীয় আদিবাসীদের দায়ী করে ক্ষুদ্ধ হয়ে কয়েকজন পাড়াবাসীকে মারধর করে, পরে দফায় দফায় হত্যার হুমকির কারনে তারা বান্দরবান শহরে আশ্রয় নেয়।
বেতছাড়ার তালুকদার পাড়ার বাসিন্দা অং থোয়াই প্রু মার্মা বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি, কখন এলাকায় ফিরতে পারবো আমরা জানিনা। “নির্যাতন, হত্যার হুমকি আর সহ্য করতে পারছিনা, তাই ছেলে মেয়ে নিয়ে পাড়া ছেড়ে বান্দরবান শহরে চলে এসেছি, কখন নিজ পাড়ায় ফিরতে পারবো জানিনা”। চোখে মুখে চরম আতংকের ছাপ বেতছড়ার বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, বান্দরবানের “হোটেল অতিথি”, হোটেলটির একটি রুমে দুই জনের থাকার জন্য ২টি সিট থাকলেও প্রান ভয়ে পালিয়ে আসা আদিবাসীরা এক একটি রুমে গাদাগাদি করে আছে আট থেকে দশ জন। হোটেলের অন্তত ১০টি রুমে শিশুসন্তান নিয়ে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। তাদের চোখেমুখে আতংকের ছাপ।“কি ঘটেছে সেদিন” প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। তাদের সবার একটায় কথা “কিছু বললে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে”। একপর্যায়ে তারা ভীত কন্ঠে বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা আছি পাড়ায়, তারা (শসস্ত্র সন্ত্রাসী) আসলে ভয়ে আমাদের টাকায় রান্না করে খাওয়ায়, তবুও যেন একটু শান্তিতে থাকতে পারি। কিন্তু এখন তারাই প্রতিনিয়ত মারধর করে আর সহ্য করতে না পেরে প্রানের হুমকির কারনে চলে আসি।
বেতছড়ার কারবারী মং পু মার্মা ও উমে প্রু মার্মা বলেন, কিভাবে দিন পার করছি তা বলে বুঝাতে পারবোনা, এলাকায় ফিরে যেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চায়। স্থানীয়রা জানায়, শহরের অতিথি হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে ৭০ জন অবস্থান করলেও আরো অন্তত ১৩০জন জেলা শহরের বিভিন্ন পরিচিত জনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। মঙ্গলবার তারা এক কাপড়েই শিশুসন্তানদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসেন। শহরে আসার পর তারা সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ফোনে একের পর এক হত্যার হুমকি পেয়ে বলেন, এখন আমরা কোথায় যাবো। বেতছড়ার বাসিন্দা উচিং মং মার্মা বলেন, আমরা এলাকা ছেড়ে চলে আসার পর তারা (সন্ত্রাসীরা) মোবাইলে অন্তত ১৫ পাড়াবাসীকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। আরো জানা গেছে, রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ায় একটি পুলিশ ক্যাম্প থাকলে শসস্ত্র সন্ত্রাসীদের তুলনায় পুলিশের জনবল কম। শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা একে ৪৭ রাইফেলসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজী করে আসলেও প্রশাসনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়রা চরম আতংকে দিন পার করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, বেতছড়া পুলিশ ক্যাম্পের পাশাপাশি বেতছড়ার তালুকদার পাড়া প্রাথমিক স্কুলে যৌথবাহিনীর আরো একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে আদিবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা দেওয়ার কথা চিন্তা করছে প্রশাসন। রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …