শিরোনাম
প্রচ্ছদ / খাগড়াছড়ি / খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চা-বাগান শ্রমিক বহনকারী জীপ খাদে, নিহত-২, আহত-১৫

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চা-বাগান শ্রমিক বহনকারী জীপ খাদে, নিহত-২, আহত-১৫

॥ খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা ॥ খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ির উপজেলার তিন গইজ্জা পাড়া নামক স্থানে পাহাড় উঠতে গিয়ে একটি জীপ গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্বের গভীর খাদে (৪৫ফুট) পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অঞ্জনা ত্রিপুরা (১৫)ও কমলাপতি ত্রিপুরা (৫৫) নামের দুই যাত্রী নিহত হয়। এ সময় গুরুত্বর আহত হয় আরো ১৫ শিশু ও কিশোর শ্রমিক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানিকছড়ি উপজেলার ‘ডাইনছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী অঞ্জনা ত্রিপুরা (১৫) পিতা মৃত লবা ত্রিপুরা। স্কুলের পড়ালেখার খরচ যোগাতে ‘মা’ কিতম্বী ত্রিপুরার সাথে চা-শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ফটিকছড়ির ‘নেপচুন’ চা-বাগানে। দৈনিক মুজরী ১৫০টাকা প্রতি বৃহস্পতিবারে এক সাথে সপ্তাহের মুজরী বিতরণ করেন চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিনের ন্যায় ২৫ আগস্ট ভোর সাড়ে ৬ টায় রামগড়ের বেলছড়ি ও সালদা এবং মানিকছড়ির টিলাপাড়া ও সাধুপাড়া থেকে জীপ (চাঁদের গাড়ী) যোগে চা-বাগানে যাওয়ার পথে মানিকছড়ির তিন গইজ্জা পাড়া নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্বের গভীর খাদে পড়ে পড়ে গেলে অঞ্জনা ত্রিপুরা(১৫) ও কমলাপতি ত্রিপুরা (৫৫) নিহত হয়। এছাড়াও আহত হয় আরো ১৫ শিশু ও কিশোর শ্রমিক
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলার টিলাপাড়া, সাধুপাড়া, বেলছড়ি ও সালদা পাড়া থেকে ৪ গ্রুপে ২ শতাধিক শ্রমিক ফটিকছড়ির নেপচুন চা-বাগানে নিয়মিত কাজ করেন। প্রতিদিন ভোর সকালে বাগান মালিকের সরবরাহকƒত জীপ গাড়ী যোগে ওইসব শ্রমিকরা কর্মস্থলে যায়। একটি জীপ (চাঁদের) গাড়ীতে অন্তত ৪৫/৫০জন শ্রমিক যাওয়া-আসা করে থাকেন বৃহস্পতিবার সকালে গাড়ী নং ঢাকা-ঘ-৮৯৮৩ যোগে মানিকছড়ির সাধুপাড়ার শ্রমিকরা যাওয়ার পথে তিন গইজ্জাপাড়া নামক স্থানে টিলা উঠতে গিয়ে গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে গিয়ে পার্শ্বের গভীর খাদে পদে গেলে ঘটনাস্থলেই ২ জনের অশাল মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আহত ১৫জনকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা গুরুত্বর ৭জনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন এবং ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখেন।
আহতরা হলেন, ফুল মালা ত্রিপুরা (১৫), মালা ত্রিপুরা (২৫), শান্তু ত্রিপুরা (৩৫), শোভা রাণী ত্রিপুরা( ১৫), কিরণ মালা ত্রিপুরা (৩০), পুলিন্দ্র ত্রিপুরা (১৫), অমল চন্দ্র ত্রিপুরা (১৫), চন্দ্রা রাণী ত্রিপুরা (১৪), সুরু কুমার ত্রিপুরা (৩০), খিরন্দ্রী ত্রিপুরা (৪০), কুলিন্দা ত্রিপুরা (৩৫), মনিবালা ত্রিপুরা (১৫), পুতলি ত্রিপুরা (১৬), মহালক্ষী ত্রিপুরা (৩০), জ্যোৎ¯œা ত্রিপুরা(১৭)।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা, ইউএনও যুথিকা সরকার, ওসি মো আবদুর রকিবসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আহতদের খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে ছুঁটে আসেন এবং গুরুত্বর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণে সহযোগিতা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে এসে তা মর্গে প্রেরণ করেন।
থানার ওসি মো আবদুর রকিব জানান, লাশের ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কিংবা আহতদের কেউ যদি মামলা না করে তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
ইউএনও যুথিকা সরকার জানান, নিরাপদে শ্রমিক কর্মস্থলে আনা-নেওয়ার বিষয়ে চা-বাগান মালিক পক্ষের কোন ত্রুটি ছিল কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …