শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ব্রেকিং নিউজ / ভাঙব, তবে মচকাব না: সাখাওয়াত

ভাঙব, তবে মচকাব না: সাখাওয়াত

ভাঙব, তবে মচকাব না: সাখাওয়াত

দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমি জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করে যাব। আমি ভেঙে যাব কিন্তু মচকাব না। এই নির্বাচনকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার ঢাকায় এ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াতের নাম ঘোষণা করেন।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নির্দলীয় নির্বাচনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছিল জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকারকে। দলের সিদ্ধান্তে তিনি ভোটের আগের রাতে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বিএনপি এবারও তাকে প্রার্থী করতে চেয়েছিল, তবে তিনি রাজি হননি।

তার বদলে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাখাওয়াত, যিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি।

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল‌্যকর সাত খুনের ঘটনায় নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালের পক্ষে মামলা লড়ার কারণে গত দুই বছরে পরিচিতি পেয়েছেন সাখাওয়াত

সাত খুনের মামলার শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে আসছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান (বামে)। (ফাইল ছবি)

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “দল সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্যসচিব মামুন মাহমুদের প্রার্থী।

“বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অফিসে বসেই তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং তারা আমার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের ভেতরে কোনো ভেদাভেদ নেই।”

সাখাওয়াতের ভাষায়, গত নির্বাচনের পরিস্থিতি আর এবারের প্রেক্ষাপট এক নয়। গতবার নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় দল কেবল প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিল। এবার তিনি বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়েই প্রচারে নামতে পারবেন।

“দল আমাকে বিশ্বাস করে এই প্রতীক দিয়েছে। ধানের শীষের অসম্মান হয় এমন কার্যক্রম আমরা রাখব না।”

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হন। ওই সময় আইন পেশায় তার সহযোগী ছিলেন সাখাওয়াত।

২০০৯ সালে মহানগর বিএনপির সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি ও এটিএম কামাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই সময় পাল্টা কমিটি দেয় মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী একটি অংশ। সেই কমিটিতে নুরুল ইসলাম সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন খান সাধারণ সম্পাদক হন।

সেই বিভাজন ভুলে সাখাওয়াতের পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন এটিএম কামাল, যিনি নিজেও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

কামাল সাংবাদিকদের বলেন, “দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। আমাদের ভেতরে কোনো ভেদাভেদ নেই। চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করব।”

এবারের নির্বাচনে সাখাওয়াতকে লড়তে হবে বর্তমান মেয়র ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে। আগামী ২২ ডিসেম্বর ভোট হবে রাজধানীর লাগোয়া এই সিটি করপোরেশনে।

মনোনয়নপত্র জমার আনুষ্ঠানিকতা এখনও শেষ না হলেও আইভীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সাখাওয়াত বলেন, “নারায়ণগঞ্জে সরকারের যতগুলো অর্গান রয়েছে সেগুলো তারা ব্যবহার করছেন-এটা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এই বিষয়গুলোর প্রতি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি দেওয়া উচিত ছিল।

ইসির সমালোচনায় তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন আসলে যে চশমা পড়েছে, তারা শুধু অন্য গণতান্ত্রিক শক্তি যে রয়েছে তাদেরকে দেখে, সরকারি দলকে দেখতে পায় না।”

সবার জন‌্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমি চাই একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সিটি করপোরেশনের ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, নির্বাচন কমিশনকে সেই অবস্থা সৃষ্টি করতে হবে।”

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …