শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ব্রেকিং নিউজ / রাঙ্গামাটিতে দুইদিনের আদিবাসী লেখক সম্মেলন শুরু

রাঙ্গামাটিতে দুইদিনের আদিবাসী লেখক সম্মেলন শুরু

রাঙ্গামাটিতে দুইদিনের আদিবাসী লেখক সম্মেলন শুরু

পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি অধ্যুষিত অঞ্চলের স্বীকৃতি দেয়া হলেও এখনও সরকার তা বাস্তবায়ন ও কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।
তিনি বলেন, সরকার সংবিধানকে দ্বিখন্ডিত করে পাহাড়ের ১৪টি জাতিগোষ্ঠির পরিচয়কে বাঙ্গালী করেছে। অথচ আমরা কেউ বাঙ্গালী নয়। এই পার্বত্য অঞ্চলে ১৪টি জাতি তার নিজস্ব জাতিগত পরিচয় আছে। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা পরিচয় আছে। তা হলে তারা বাঙ্গালী হতে যাবে কেন। এতো আমাদের সরকার শাসক গোষ্ঠি তাই করেছে। পার্বত্য চুক্তিতে পাহাড়ী জাতিসত্তার নিজস্ব জীবন ধারার স্বীকৃতি থাকলেও সরকার তা মেনে নিতে চাচ্ছে না।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) রাঙ্গামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী দ্বিতীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি লেখক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা এ কথা বলেন।
ঢাকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ ও প্রাক্তন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির লেখক ও গবেষক শিশির চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের লেখক ক্রায়োরি মং চৌধুরী, লেখক প্রভাংশু ত্রিপুরা, লেখক মঙ্গল দেব বর্মন বক্তব্য রাখেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা আরো বলেন, শ্রেনী বিভক্ত সমাজে যেখানে সাহিত্য কোন সময়ে শ্রেনীর উর্ধে যেতে পারে না। এখানে সমাজে যে ধনী নিরধনী যা কিছু বিরাজমান সেখানে আমরা তার অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা যদি দেখি সমাজে নানা বিভাজন। জাতিগত যেমনী আছে তেমনী সাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক ভাবে ধনী নিরধনীর বৈষম্যতা বিরাজ করে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শোষক এবং শোষিত মূলত দুইটি শ্রেনীতে দেখি থাকি। আজকে পার্বত্য অঞ্চলে আমরা যারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি জাতিসমূহ জুম্মজাতি এখানে বসবাস করি তারা শোষক ও শোষিতদের দ্বারায় চালিত হচ্ছি। আমার মাতৃভাষায় আমার কথা বলার অধিকার না থাকে আমার যদি সেই ভাষায় অনুভূতি আবেগ কামনা বাসনা ব্যক্ত করতে না পারি, আমার জীবনটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকে শাষন শোষনের মধ্যে যদি থাকে তা হলে আমার ভাষার স্বাধীনতা কোথায়। তার অস্থিত্ব কোথায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। স্বাভাবিক যে কোন একটি রাষ্ট্রে তার নিজস্ব ভাষা থাকে। কিন্তু তার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাগুলো সংরক্ষণ ও বিকাশের যদি অধিকার না থাকে। সেই ভাষার অধিকার থেকে যদি সে বঞ্চিত হয় তা হলে নিঃসন্দেহে সেই ভাষা নিপিরন নির্যাতনের মধ্যে থাকবে। সেই ভাষা হারিয়ে যেতে বাধ্য থাকবে। তবুও আজকে যারা সাহিত্য চর্চা করছেন তারা পার্বত্য অঞ্চলে অবহেলিতদের অধিকার নিয়ে লেখালেখি করে যাচ্ছেন, সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
দুই দিনের সম্মেলনে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি বান্দরবানসহ ত্রিপুরা রাজ্যের ২শতাধিক লেখক ও কবি যোগ দিয়েছেন।

পড়ে দেখুন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের …