শিরোনাম
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পেট্রোল বোমা ছুড়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য ক্ষমা চান: প্রধানমন্ত্রী

পেট্রোল বোমা ছুড়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য ক্ষমা চান: প্রধানমন্ত্রী

হাঙ্গেরি সফর থেকে ফেরার পর শনিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে তিনি এ পরামর্শ দেন।
খালেদা জিয়ার তুলে ধরা ১৩ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মতামত চাইলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “তিনি নির্বাচন করেননি, একটা দল হিসেবে বা দলের প্রধান হিসেবে একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত থেকেছিল। এখন এতদিন পর উনার টনক নড়লো।
“এরপর উনি মানুষ খুন করে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত করার আন্দোলন করলো। যেকোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগে তার তো জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ছিল যে, সে যে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে তার জন্য।”
নবম সংসদে নির্বাচিত সরকার পতনের আন্দোলন ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস কর্মসূচির মধ্যে বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে শতাধিক মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
নৃশংস সেসব হত্যাকাণ্ডের কথা কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “একটু হিসেব করে দেখেন যে, কত মানুষকে সে পুড়িয়ে মেরেছে। তার তো আগে প্রথমে একথাই বলা উচিৎ ছিল যে, তার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ছিল।
“এতগুলি সাধারণ মানুষ, বাসের প্রাইভার, হেল্পার, রেল, লঞ্চ, কোথায় না আঘাত করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ তো ধ্বংস করেইছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারকে ফেলে দিয়ে মেরেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ২০ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। আগে সেই জবাবটা জাতির কাছে দিক। তারপর তার প্রস্তাব নিয়ে কথা বলব।
“তিনি একটি বাড়িতে বসে থাকবেন, সরকার উৎখাত না করে বাড়ি ফিরবেন না। আর মানুষ পোড়াবে। তার কাছ থেকে আর কি আশা করবেন।”
ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গেলে তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনাকে ‘অভদ্রতা’ উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
“এই ধরনের অভদ্র যারা, তারা কি প্রস্তাব দিল না দিল ওটা নিয়ে আমার মতামত চান কেন আপনারা? এ ধরনের ছোটলোকি যারা করে, অভদ্রতা যারা করে তাদের কোনো মতামতের ওপর মতামত দেওয়ার অভিপ্রায় আমার নেই।
“যারা খুনী, খুনীদের কথার আবার কিসের জবাব দেব।”
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপির দোলাচলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা আজকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তো কালকে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তাদেরও তো সিদ্ধান্তের কোনো মিল নেই।
“পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা জিতেছিল। তখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে অভিযোগ উঠাল না কেন? তখন কিন্তু কথা
বলেনি। আজকে একটা অংশগ্রহণ করবে, জিতলে ভাল, হারলে সব খারাপ।” বিএনপি নেতৃত্বের কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতাই নেই মন্তব্য করে জবাবের শেষ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “সাজুগুজু করে বসে থাকলেই সব হয় না।”
স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের নিয়ে গঠিত ফিড্রম পার্টির সঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের আলোচনায় বসতে বিএনপির দাবির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “কারণ এটা তো বাস্তব, তিনি একেবারে সেই ৭২ এর পর থেকে যত পার্টি; ফ্রিডম পার্টি থেকে শুরু করে খুনিদের দল, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী সবাইকে নিয়েই উনি কথা বলতে চায়। উনার ভাব তো বুঝাই গেল উনি কি চাচ্ছে।
বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী এবং ভোট কারচুপির নির্বাচন করে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সংসদে বসিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার প্রস্তাব নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তার প্রস্তাব নিয়ে এত তোলপাড় করার কি আছে আমি তো বুঝিনা। যে দেশের স্বাধীনতায়ই বিশ্বাস করে না।”
তবে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির উপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এটা রাষ্ট্রপতি ভাল বুঝবেন। তিনি পদক্ষেপ নেবেন। যে পদক্ষেপ নেবেন সেটাই হবে। এখানে আমাদের কোনো বলার কিছু নেই।”
বিএনপির ক্ষমতায় থাকার সময় বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে প্রশ্ন একটাই আসে যে, তারা যখন ক্ষমতায়, তারা যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিল সেগুলি কি তাদের স্মরণে আছে? সেকথাগুলি তো তাদের একটু স্মরণ করে দেয়া উচিৎ যে নির্বাচন নিয়ে কি খেলা তারা খেলেছে।”
এর আগে সার্চ কমিটি তৈরি করে যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল এখনো সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

পড়ে দেখুন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের …