শিরোনাম
প্রচ্ছদ / জাতীয় / সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাতে বিজয়ের ‘ভি’

সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাতে বিজয়ের ‘ভি’

সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাতে বিজয়ের ‘ভি’

রাত গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যত বেশি কেন্দ্রের ফল আসছে, নগরীর বঙ্গবন্ধু রোডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর মিডিয়া সেলের বাইরে ততই বাড়ছে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়।

এক যুগের বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের পৌর ও সিটি করপোরেশনের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আইভীকে আরও এক মেয়াদে পাওয়ার আভাসে সমর্থকদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত উঠেছে দেওভোগে তার বাড়ির উঠানও।

আইভী রাত ১০টা পর্যন্ত নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। ঘর থেকে বেরিয়ে হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাবও দেন তিনি।

৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পর শুরু হয় গণনা। রাত ১০টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ১৭৪ কেন্দ্রের মধ‌্যে ১৬৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আইভীর ৭৪ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার খবর দেওয়া হয়।

তার আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকেই আইভীর মিডিয়া সেলে পৌঁছে যায় ১৩৫ কেন্দ্রের ফলাফলে ‘বিজয়ের খবর’।

মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম জনি বলেন, “১৩৫ কেন্দ্রে ফলাফল এজেন্টদের পাওয়া শিট যোগ করেছি- তাতে দেখা যাচ্ছে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩ ভোট। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৭২ হাজার ১৫৩ ভোট।”

বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আইভী অনেক এগিয়ে আছেন জানিয়ে জনি বলেন, “এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছি। আমরা নিশ্চিত, আইভী আপাই নারায়ণগঞ্জের মেয়র থাকছেন।”

রফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, “আমরা জেনেছি- আইভী আপা জিতছেন, এজন্য আনন্দ করছি।”

আইভীর নির্বাচনী কার্যালয়ে যখন জয়োল্লাস চলছে, শহরের ২ নম্বর গেইট এলাকায় বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের মিডিয়া সেল তখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে প্রার্থী সাখাওয়াত তখনও চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার অপেক্ষায়।

রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি এখনও প্রস্তুত নই… পরে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।”

ফিরে দেখা

২০১১ সালে এ সিটি করপোরেশনের নির্দলীয় নির্বাচনে আইভী ১ লাখ ১ হাজার ৩৪৩ ভোটে পরাজিত করেন তার নিজের দলেরই আরেক প্রার্থী শামীম ওসমানকে।

সেবার আইভী পান ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত শামীম ওসমান পান ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট।

ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার পান ৭ হাজার ৬১৬ ভোট। ভোটের আগের রাতে দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

বিএনপির এবারের প্রার্থী সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জে দলীয় রাজনীতিতে একেবারে প্রথম সারিতে না থাকলেও সাত খুনের মামলায় বাদীর আইনজীবী হিসেবে তিনি আলোচনায় আসেন সাম্প্রতিক সময়ে।

তিনি ঘোষণা দেন, এবার আর বর্জন নয়, ভোটের শেষ পর্যন্ত দেখবেন তিনি। ভোট সুষ্ঠু হলে ফল মেনেও নেবেন।

অন‌্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভী সকালে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনের সময় পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও আনন্দঘন থাকে। সুবাতাসই বইছে। জনতার রায় আমি মানি; তারা যে রায় দেবে তা মাথা পেতে নেব।”

সাখাওয়াতের ধানের শীষ তার নিজের কেন্দ্রে আইভীর নৌকার কাছে হেরেছে প্রায় এক হাজার ভোটের ব‌্যবধানে। আর আইভী তার নিজের কেন্দ্রেও বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়েছেন প্রায় সমান ভোটে।

সাখাওয়াতের আদর্শ হাই স্কুল কেন্দ্র: ধানের শীষ ৯৬৮ ভোট, নৌকা হাজার ৯৩০ ভোট

আইভীর দেওভোগ শিশুবাগ বিদ্যালয় কেন্দ্র: ধানের শীষ ৬২৮ ভোট, নৌকা হাজার ৫৯১ ভোট

আইভীর বাবা প্রয়াত আলী আহমেদ চুনকা স্বাধীনতার পর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসক হিসেবে পেশাজীবন শুরুর পরপরই ১৯৯৪ সালে আইভী উচ্চশিক্ষার জন‌্য নিউজিল্যান্ডে চলে যান।

সেখান থেকে ২০০২ সালে ফিরে পরের বছর বিপুল ভোটে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নারী চেয়ারম্যান হন চুনকার মেয়ে। পৌরসভা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১১ সালে দলের নেতাদের মতের বিরুদ্ধে গিয়েই আইভী ভোটে দাঁড়ান এবং মেয়র নির্বাচিত হন।

নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করা আইভী এখন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …