শিরোনাম
প্রচ্ছদ / চট্টগ্রাম / চট্টগ্রামের একাধিক ‘কিশোর গ্যাং’ পুলিশের নজরদারিতে

চট্টগ্রামের একাধিক ‘কিশোর গ্যাং’ পুলিশের নজরদারিতে

চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় উঠতি ‘কিশোর গ্যাং’ গুলো এখন পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। নগর ও উপজেলা সমূহে নানা অপরাধে অনেক কিশোর লিপ্ত থাকলেও তা এতোদিন পুলিশের নজরে আসেনি।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে কিশোর গ্যাং-এর অপরাধীদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন হন ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবির। খেলার মাঠে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে খুন করা হয় আদনানকে।

আদনান হত্যাকান্ডের পরপরই কিশোর অপরাধ দমনে সক্রিয় হয়ে উঠে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অনুসন্ধানে শুধু ঢাকার উত্তরাতেই অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত এমন একাধিক গ্রুপের সন্ধান পায় পুলিশ। যা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরার ডিসকো গ্রুপ ও নাইনস্টার গ্রুপের এর মধ্যে অধিপত্য ও অন্তকোন্দলের কারণে প্রকাশ্য খুন হন আদনান কবির। এমন কোন্দল নানা অপরাধে লিপ্ত রয়েছে আরও কয়েকটি গ্রুপের সদস্যরা। পুলিশের এমন অনুসন্ধানে কপালে ভাঁজ পড়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

যা নিয়ে দেশব্যাপী কিশোর গ্যাং নিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়া হয় নগর ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের। অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার সন্ধান মিলেছে বলে জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, স¤প্রতি ঢাকায় সংগঠিত বিভিন্ন ঘটনায় কিশোর ভিত্তিক কিছু সংগঠনের নাম পুলিশের তালিকায় উঠে আসলেও এ ধরণের কোনো সংগঠন চট্টগ্রামে তৎপর কি না সে বিষয়ে কিছুই জানা ছিল না পুলিশের। তবে অনুসন্ধানে কয়েকটি কিশোর গ্যাং এর তৎপরতার খবর ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি।

একইভাবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, চট্টগ্রামে কিশোর কর্তৃক বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হলেও কিশোর ভিত্তিক কোনো গ্যাং এর বিষয়টি আগে পুলিশের নজরে আসেনি। বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে কিশোর গ্যাং এর বিষয়টি পুলিশ নজরদারিতে এনেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরেই ৫টি কিশোর গ্যাং রয়েছে যারা রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নিজেদের সংঘঠিত করে গ্রæপ ভিত্তিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব গ্রæপের সদস্যরা বেশিরভাগই ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে সক্রিয় রয়েছে। অন্তরালে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে তারা।

লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে বখাটেপনায় মেতে ওঠা এসব উঠতি তরুণ এখন এলাকার আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে। এদের অনেকে আবার লেখাপড়ার সাথেও সম্পৃক্ত নয়। যারা দিনের পর দিন বেপরোয়াভাবে অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে নগরীর চকবাজার, মেডিকেল হোস্টেল, শিল্পকলা একাডেমি, সিআরবি, খুলশি, ফয়েজলেক, ডেবারপার, চান্দগাঁও শমসের পাড়া, ফরিদের পাড়া, আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনী, সিডিএ, ছোটপুল, হালিশহর, বন্দর কলোনী ও পতেঙ্গার বেশ কয়েকটি এলাকায় মাদক বেচাকেনাসহ মোটরসাইকেল ও সাইকেল ছিনতাই, গান-বাজনা, খেলার মাঠ, ডান্স ও ডিজে পার্টি, ক্লাবের আড্ডাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণে মরিয়া।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, মেয়েদের ব্যানিটি ব্যাগ ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনায় কিশোর অপরাধীরা জড়িত। যারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন কিশোর গ্যাং এর সদস্য। নিজ এলাকার মধ্যেই এরা নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে থাকে।

নাম প্রকাশ না করে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, বখাটে কিশোর গ্রপগুলোর ব্যাপারে পুলিশকে অবহিত করা হলেও পুলিশ কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এদের ব্যাপারে পুলিশ সবসময় উদাসীন। ফলে নির্বিঘেœ অপরাধ করে পালিয়ে যায় কিশোর অপরাধীরা।

নগরীর ডেবারপার এলাকার বাসিন্দা মাহাবুব আলম অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল পরিচয়ে এলাকার বেশ কিছু বখাটে কিশোর গ্যাং করে চলাফেরা করে। এদের নানা অপরাধ কর্মকান্ডে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এদের ব্যাপারে কেউ বাঁধা দিলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তাদের দলের লোক বলে শাসায়। ফলে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …