শিরোনাম
প্রচ্ছদ / তৃণমূল / সর্বজনশ্রদ্ধেয় বনভন্তের ৯৮তম শুভ জন্মদিন

সর্বজনশ্রদ্ধেয় বনভন্তের ৯৮তম শুভ জন্মদিন

সর্বজনশ্রদ্ধেয় বনভন্তের  ৯৮তম শুভ জন্মদিন
 নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয়গুরু পরমপূজ্য শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে) এর ৯৮ তম শুভ জন্মদিন আজ। রাঙ্গামাটি রাজ বন বিহারে দেশনালয়ে বনভন্তের জন্মদিন উপলক্ষে ভোর সাড়ে ৫ টায় কেক কাটা হবে। নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হবে এই দিবসটি। বনভন্তের দিনটি যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও শ্রদ্ধার সহিত উদযাপনের জন্য ৮ জানুয়ারি আজ রবিবার রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে বিহার পরিচালনা কমিটি।
অনুষ্ঠান সূচীতে রয়েছে, আজ ভোর সাড়ে ৫টায় বুদ্ধপতাকা উত্তোলনের পর বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে পরম পূজ্য বনভন্তের অনুষ্ঠান উদ্বোধন, কেক কেটে ৯৮তম শুভ জন্মদিনের সূচনা, শ্রদ্ধেয় ভিক্ষুসংঘকে প্রাতঃ রাশ দান, বুদ্ধপূজা, বনভন্তের সশিষ্য অনুষ্ঠানমঞ্চে আগমন ও আসন গ্রহণ, উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন, পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান ও অষ্টপরিস্কার দানসহ বিশেষ প্রার্থনা পাঠ, অতিথিবৃন্দের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যসহ ভিক্ষুসংঘের সদ্ধর্ম দেশনা প্রবণের মাধ্যমে পরমপূজ্য শ্রদ্ধেয় বনভন্তের ৯৮তম জন্মদিন উদযাপন। সন্ধ্যায় চুরাশি হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এর মাধ্যমে ৮দিন ব্যাপী সদ্ধর্মপূজা (ত্রিপিটক পূজা) এবং ত্রিপিটক পাঠ অনুষ্ঠানসহ যথাযথ ধর্মীয় গৌরব ও অনুভূতি সহকারে যাবতীয় অনুষ্ঠানের কর্মসূচী পরিসমাপ্তি।
শ্রদ্ধেয় বনভন্তে ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারি কাপ্তাই মগবান মৌজায় জলম্গ্ন মুরোঘোনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গৃহী নাম ছিল রথীন্দ্র চাকমা। পিতার নাম হারুমোহন চাকমা, মাতা বীরপদি চাকমা। ১৯৪৯ সালের ফাল্গুনী পূর্ণিমায় বনভন্তে চট্টগ্রামের নন্দকানন বৌদ্ধ বিহারে প্রয়াত দীপংকর মহাস্থবিরের নিকট প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। প্রবজ্যা গ্রহণের পর ধ্যান-সাধনার জন্য তিনি রাঙ্গামাটি সদরের ধনপাতার গভীর বনে অবস্থান করেন। সাধনার বেশিরভাগ সময় বনে অতিবাহিত করার কারণে তিনি বন শ্রমণ হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধের কারণে ধনপাতা গ্রামটি জলমগ্ন হওয়াতে বনভন্তে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা উপজেলায় চলে যান। ১৯৬১ সালের ২৭ জুন দিঘিনালার বেয়ালখালী রাজ বৌদ্ধ বিহারে জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের নিকট তিনি উপসম্পদা গ্রহণ করেন। এই উপজেলায় গভীর বনে ধ্যান-সাধনারত অবস্থায় বনভন্তে নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার তিনটিলায় গমন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনটিলা বনবিহারে বনভন্তের নির্দেশে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে কঠিন চীবরদান শুরু হয়। এই নিয়মে ১৯৭৪ সালে চাকমা রাজার রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন করতে বনভন্তে সশিষ্যমন্ডলী নিয়ে রাঙ্গামাটি আসেন।
১৯৭৭ সালে শিষ্যমন্ডলী নিয়ে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে আগমন করেন। ১৯৮১ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজবন বিহারে তাঁকে মহাস্থবির (উপসম্পদার ২০বছর পূর্তি) হিসেবে বরণ করা হয়। বর্তমানে এই বিহারে অবস্থান করেই বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার-প্রসার করছেন বনভন্তে। তিন পার্বত্য (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) জেলায় তার বহুসংখ্যক শিষ্যমন্ডলী বুদ্ধ এবং বনভন্তের বাণী প্রচার করেছেন।
উল্লেখ্য, পরমপূজ্য বনভন্তে গত ৩০ জানুয়ারী ২০১২ সালে পরিনির্বাণ প্রাপ্ত  হন। পূজ্য বনভন্তের দেহ ধাতু বতর্মানে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

পড়ে দেখুন

অধিক শস্য ফলনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পাশাপাশি সকলকে সঞ্চয় করার …