শিরোনাম
প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / দৈনিক গিরিদর্পণের ৩৪ বছর পূর্তি ও ৩৫ বছরে পদার্পন অনুষ্ঠান আজ

দৈনিক গিরিদর্পণের ৩৪ বছর পূর্তি ও ৩৫ বছরে পদার্পন অনুষ্ঠান আজ

॥ নন্দন দেবনাথ ॥ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি)’র সর্বপ্রথম ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রচার বহুল দৈনিক সংবাদপত্র দৈনিক গিরিদর্পণের আজ ৩৪ বছর পূর্তি ও ৩৫ বছরে পদার্পন অনুষ্ঠান। এই উপলক্ষে দৈনিক গিরিদর্পণ পরিবার আজ এক আলোচনা সভা, কেক কাটা অনুষ্ঠান এবং সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মাইনী মিলনায়তনে বিকাল ৩ টায় এই অনুষ্ঠান মালা অনুষ্ঠিত হবে।
দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক এ,কে,এম মকছুদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। গেস্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদ সদস্য, মহিলা আসন-৩৩ ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, এনডিসি, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ বেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, রাঙ্গামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী।
এছাড়া অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি জেলার কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠন গুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের ৬ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, একশে পদক প্রাপ্ত কবি ও সাহিত্যক মংছেনচীন মংছিন্, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রীতি কান্তি ত্রিপুরা। কাবি ও সাহিত্যিক শোভা রানী ত্রিপুরা, মরনোত্তর সাংবাদিক হিসাবে দৈনিক গিরিদর্পণ পত্রিকার প্রাক্তন বাতা সম্পাদক প্রয়াত শলেন দে, সাংবাদিকতায় দৈনিক গিরিদর্পন লংগদু উপজেলা প্রতিনিধি এখলাছ মিয়া খান, বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি দিলীপ কুমার দাশ।
এদিকে একটি লেখায় বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মোঃ জানে আলম দৈনিক গিরিদর্পণ পত্রিকার ৩৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে তার লেখায় বলেন ঃ সাধারণভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশের প্রিন্ট মিডিয়াকে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, পেশাগত ঝুঁকি, বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট, সংবাদের বানিজ্যিকিকরণ, মালিক গোষ্ঠীর অযাচিত হস্তক্ষেপ, পেশাদারিত্বের অভাব ইত্যাদি। এর বাইরেও রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর দূর্বলতা যেমন- গণতান্ত্রিক চর্চাহীনতা, সুশাসনের অভাব, বিভিন্ন নীতি-আইন, সংবাদপত্র শিল্পকে হুমকীর মুখোমুখি করেছে।
অনলাইনে তাৎক্ষনিক খবরের প্রাপ্যতা দৈনিক সংবাদপত্রের জন্য নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে। ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, স্মার্ট ফোন ইত্যাদি ডিজিটাল ডিভাইস এখন সাধারণের নাগালের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটের কাভারেজ বৃদ্ধি সংবাদকে আরও সহজলভ্য করেছে।
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার প্রভাবে মিডিয়া এখন আগ্রাসী বানিজ্যের শিকার। কালো টাকার অনুপ্রবেশ ঘটেছে মিডিয়ায়। পুঁজি স্বভাবত:ই মুনাফামুখী। কর্পেরেট পুঁজির প্রভাবে সংবাদপত্র এখন বানিজ্যের উপাদান। এখানে লাভ লোকসান এখন প্রধান বিবেচ্যবিষয়। সমাজ বিবর্তন, রাজনীতির মেরুকরনে সংবাদপত্রের একদা যে অনুঘটকের ভূমিকা ছিল এখন তা প্রায়ই অনুপস্থিত। ব্যবসায়িক স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে যতটা সম্ভব ঠিক ততটা দায়িত্ব পালনকে সংবাদপত্রের কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকতা হলো সত্যের প্রকাশ। অন্যায় ও অন্যায়কারীর অসংকোচ প্রকাশ সত্যের স্বার্থে অপরিহার্য। এতে অবশ্যই ঝুঁকি বিদ্যমান, সমাজ ও রাষ্ট্রে অন্যায়, অনাচার বিশৃঙ্খলা যতটা প্রবল, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় ঝুঁকি ততটাই ব্যাপক। আর এ ঝুঁকি গ্রহণ করার প্রত্যয় সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণের অন্যতম পূর্বশর্ত। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সংবাদ মাধ্যম স্বাধীন না হলে গণতন্ত্র পূর্নতা পায়না, আবার গণতন্ত্র না থাকলে সুশাসন সম্ভব হয়না, সুশাসন না থাকলে সংবাদ মাধ্যম কখনও কখনও স্বাধীন হতে পারে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পরষ্পর সর্ম্পকযুক্ত। অতএব গণতন্ত্র নির্মাণে ও সুশাসনের আবহ সৃজনে সংবাদপত্রের ভুমিকা অপরিসীম। পুঁজি নির্ভরতা থাকলেও এটি আদপে পুঁজিজাত মুনাফা অর্জনকারী পন্য নয়।
একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে প্রযুক্তি ও পুঁজির প্রভাবে নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। বিজ্ঞাপনের ভাষা ও রিপোর্ট এখন প্রায় সমার্থক। এ প্রক্রিয়ায় প্রতারিত হচ্ছেন পাঠক। প্রক্রিয়াটি মূলত: তথ্য ব্যবসা কোনভাবেই তা সাংবাদিকতা নয়। যারা এ জোয়ারে এখনও ভেসে যাননি তাদের টিকে থাকার উপরই নির্ভর করছে সাংবাদিকের মর্যাদা, সামাজিক দায়িত্ব পালনের অগ্রাধিকার।
গিরিদর্পনে বিম্বিত আমাদের পার্বত্য জীবন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নানা কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় এখনও অনেক কিছুতে পিছিয়ে আছে। কিন্তু এর মনোহর প্রকৃতি, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আর গৌরবোজ্জল নৃ-বৈচিত্রের সাথে মিশে আছে একটি উজ্জল নাম- ‘দৈনিক গিরিদর্পন’। শত প্রতিকুলতাকে ডিঙ্গিয়ে গত ৩৫ বছর যাবৎ নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত এই দৈনিকটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গিয়েছে। এই নিরন্তর সৃজন প্রক্রিয়ার সাথে যে নামটি জড়িয়ে আছে সেটি হলো দেশে বিদেশে নানা সম্মানে ভূষিত সংবাদ জগতের উজ্জল জ্যোতিষ্ক এ,কে,এম মকছুদ আহমেদ। মকছুদ আহমেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা, সম্পাদকীয় নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত করিশমা, নিলোর্ভ মানসিকতা, কুশলী ব্যবস্থাপনা আর সাংগঠনিক দক্ষতা ‘দৈনিক গিরিদর্পন’কে দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় পত্রিকায় অধিষ্টিত রেখেছে। কোন পত্রিকা এত দীর্ঘসময় টিকতে পারেনা যদিনা তার সাথে অগনিত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থন ও শুভেচ্ছা থাকে। গিরিদর্পনের ৩৫ বছরে পদার্পন প্রমান করে পাঠক কখনও গিরিদর্পনের প্রতি বিমুখ হয়নি।
ঢাকা, চট্টগ্রামের বর্ণিল দৈনিক পত্রিকার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করেই দৈনিক গিরিদর্পনকে টিকতে হয়েছে। একসময় ঢাকা-চট্টগ্রামের পত্রিকা অনেক বেলা করে রাঙ্গামাটিকে পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন বিশেষ ব্যবস্থায় ভোরেই ঢাকা-চট্টগ্রামের দৈনিক পত্রিকা পাওয়া যায় এখানে। দুপুরের মধ্যে উপজেলা শহরগুলোতেও ঢাকা-চট্টগ্রামের দৈনিক পত্রিকা পৌঁছে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয় দৈনিকের পাঠক পাওয়া সত্যিই কঠিন। কিন্তু তা সত্বেও বিপুল সংখ্যক পাঠক নিয়মিত এ পত্রিকাটি পড়ে। এর একটিই কারণ দৈনিক গিরিদর্পন কখনই জাতীয় দৈনিক হতে চায়নি। বরঞ্চ পার্বত্য জনপদের প্রাত্যহিক জীবনের ছবি তুলে ধরতেই এটি সচেষ্ট রয়েছে। শুধু খবর পরিবেশনায় নয়, পার্বত্যাঞ্চলের সম্ভবাবনা, সংস্কৃতি ও নানা সৃজনশীল উদ্যোগের বিশ্বস্থ উপস্থাপনায় দৈনিক গিরিদর্পন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
গিরিদর্পনে বৈচিত্রময় নিবন্ধ, ফিচার ছবি ও কলাম যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তাৎক্ষনিকতা দৈনিক গিরিদর্পনের অন্যতম বৈশিষ্ট। তবে দৈনিক গিরিদর্পনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে। এখানে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আরও গভীর অনুসন্ধিৎসা নিয়ে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত ও প্রাজ্ঞজনদের মতামত সন্নিবেশন করা বাঞ্চনীয়। শিক্ষা, ব্যবসা, শিল্প, বন, পরিবেশ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, রাজনীতি বিষয়ে আরও অনুসন্ধানী ও বৈচিত্রময় প্রতিবেদন, ফিচার ও সাক্ষাতকার পাঠের অপেক্ষায় আছি। বিশেষ সংখ্যা, ছবি বিন্যাস, প্রথম পৃষ্ঠার মেকআপ, সংবাদ টাইটেল তৈরীতে আরও মনোযোগ দাবী রাখে। খবর নির্বাচনেও কিছুটা সংযমী হওয়ার অবকাশ রয়েছে। ৩৫ বছরের প্রাজ্ঞ ও সমৃদ্ধ দৈনিক গিরিদর্পনকে আজও আগামীর প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সদা সর্বদা।

পড়ে দেখুন

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেল ৫৮৭ পরিবার 

চট্টগ্রাম ব্যুরো :: প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চট্টগ্রাম জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন (৩য় পর্যায়) ৫৮৭টি পরিবারকে জমিসহ …