শিরোনাম
প্রচ্ছদ / চট্টগ্রাম / প্রধানমন্ত্রীকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির স্বারকলিপি

প্রধানমন্ত্রীকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির স্বারকলিপি

চট্টগ্রামে যাত্রী হয়রানী ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধকরা, সিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থা ডিজিটাল করার দাবী।
চট্টগ্রাম মহানগরে যাত্রী হয়রানী ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধকরা, যানজট নিরসন, ট্রাফিক পুলিশের দুর্ণীতি বন্ধে সিএমপি ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার দাবীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে স্বারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের কাছে এই স্বারকলিপি প্রদান করে সংগঠনের কেন্দ্রিয় কমিটির মহাসচিব ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এই সময় সংগঠনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটি, মহানগর কমিটি ও জেলা কমিটির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বারকলিপিতে বলা হয়, নগরীতে চলাচলরত গণপরিবহন সমূহের পাশাপাশি নগর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতকারী যানবাহন সমূহে সন্ধ্যাকালে এবং বৃহস্পতিবার ও সরকারী ছুটির পূর্বদিবসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তিন থেকে পাঁচগুন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গণপরিবহর সংকটে নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে, বাসের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে, ছোট ছোট যানবাহন বিশেষ করে টেম্পু ও অটোরিক্সার সংখ্যা অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। এতে যানজট ও জনজট বাড়ছে। এসব সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সমাধানের জন্য কোন অথরিটি এগিয়ে আসছে না । তাই এই সব সমস্যা সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে সংগঠনটি।

স্বারকলিপিতে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মোটরযান আইনের বিভিন্ন ধারায় প্রতিদিন প্রায় ৫/৬শত মামলা করে থাকে। এসব মামলায় মোটরযান চালক ও মালিকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হলে সিংহভাগ অর্থলুটপাট হচ্ছে। গ্রাহকদের ট্রাফিক আইনের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকায়। প্রসিকিউশন শাখায় সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় গ্রাহকদের যথাযথ মেমো বা রশিদ না দিয়ে নগদ টাকা আদায় করায়, সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রসিকিউশন শাখার কতিপয় দুর্ণীতিবাজ পুলিশ সদস্যরা লুটপাট বানিজ্য চালাচ্ছে বলে স্বারকলিপিতে উল্লেখ্য করে সংগঠনটি।

স্বারকলিপিতে আরো বলা হয়, ট্রাফিক বিভাগের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বহু আগে ডিজিটাল/অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে পান্সিং পদ্ধতিতে মামলা প্রদান ও জরিমানার অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আদায় করছে। এছাড়াও রবি ও ইউক্যাশে ট্রাফিক বিভাগের মোটরযান আইনে রুজুকৃত মামলার জরিমানার অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করায় ঢাকা মহানগরীতে যে ধারার মামলা ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় চট্টগ্রামে একই ধারায় ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। একটি গাড়ী “টো” বা আটকের ক্ষেত্রে ৮,০০০ (আট) হাজার থেকে ১৫,০০০ (পনের) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার আদায় করা হচ্ছে। অথচ ডিএমপিতে আটককৃত যানবাহনে মাত্র রেকার ভাড়া আদায় করা হয়। যানবাহন থেকে আদায়কৃত এ অর্থ পরোক্ষভাবে যাত্রী সাধারণের কাধেঁ এসে পরছে বলে দাবী করেন সংগঠনটি।

এতে যাত্রী হয়রানী ও ভাড়া নৈরাজ্য বাড়ছে, রাস্তায় চলছে ফিটনেস বিহীন লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি যা যাত্রী সাধারণকে ঝুকিতেফেলেছে ।  মালিক- চালকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। এতে করে গোটা পরিবহন ব্যবস্থার উপর একটি বিরূপ প্রভাব পড়ছে এর থেকে উত্তোরনে সিএমপির ট্রাফিক সিষ্টেম ডিজিটাল/অনলাইন করার দাবী জানান সংগঠনটি।

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ সড়ক চাই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সফিক আহম্মেদ সজিব,, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর রহিমা আকতার ডলি, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুুরী,  আওয়ামী মোটরচালক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আকরাম হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সদস্য কাজল প্রিয় বড়–য়া,  বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির নেতা জিয়া উদ্দিন সোহেল, মাওলানা জিয়াউর রহমান, একেএম রিদওয়ানুল করিম, মোকতার হোসেন,  জাহাঙ্গির আলম, মো. রফিক প্রমূখ।

পড়ে দেখুন

অধিক শস্য ফলনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পাশাপাশি সকলকে সঞ্চয় করার …