শিরোনাম
প্রচ্ছদ / কক্সবাজার / সীতাকুন্ডে নিহত জঙ্গি দম্পতির বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়িতে

সীতাকুন্ডে নিহত জঙ্গি দম্পতির বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়িতে

॥ বান্দরবান সংবাদদাতা ॥ সীতাকুন্ডে জঙ্গি আস্তানায় নিহত কামাল এবং জোবাইরা ইয়াসমিন দম্পতির বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। প্রায় ৯ মাস আগে তারা বাইশারী ইউনিয়নের যৌথ খামার পাড়ার বাড়ি থেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে চট্টগ্রামে চলে যায়। আর ফিরে আসেনি এ দম্পতি। চট্টগ্রামে আসার পর ২ মাস পরিবারের সাথে যোগাযোগ থাকলেও গত ৭ মাস ধরে পরিবারের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
শনিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কান্না জড়ানো কণ্ঠে কথাগুলো বলেন জঙ্গি আস্তানায় নিহত জোবাইরা ইয়াসমিনের মা জান্নাত আরা এবং বাবা নূরুল আলম।
এদিকে সীতাকুন্ডে জঙ্গি হামলায় হতাহতদের খোঁজে শনিবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে যৌথ খামার পাড়ায় যান পুলিশ। নিহত জোবাইরা ইয়াসমিন এবং তার স্বামী কামাল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। এ সময় তাদের বাড়ি তল্লাশি করা হয়।
জোবাইরার বাবা-মা জানান, প্রায় ৯ মাস আগে তারা বাইশারী ইউনিয়নের যৌথ খামার পাড়ার বাড়ি থেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে চট্টগ্রামে চলে যায়। এর কয়েকদিন পর জোবাইরা ইয়াসমিনের ছোট ভাই জহিরুল হক বোন জোবাইরার বাড়ি চট্টগ্রামে চলে যায়। তারও কিছুদিন পর জোবাইরা ইয়াসমিনের সন্তান দেখা-শোনার কথা বলে জহিরুল হক তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম এবং ছোট বোন মনজিয়ারাকে চট্টগ্রামে জোবাইরার বাসায় নিয়ে যায়। চট্টগ্রামে সবাই চলে যাওয়ার পরও মাসখানেক পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু গত প্রায় ৭ মাস ধরে তারা নিখোঁজ রয়েছে। তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেই। কোথায় আছেন তাও জানেন না তার বাবা-মা।
জোবাইরা ইয়াসমিনের বাবা নুরুল আলম বলেন, স্ত্রী’সহ সন্তান নিয়ে প্রায় ৩০ বছর আগে মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর থেকে বাইশারী ইউনিয়নের যৌথ খামারপাড়ায় আসেন। সেই থেকে এ গ্রামেই তারা বসবাস করে আসছেন। তার ছেলে জহিরুল হক, মেয়ে জোবাইরা ইয়াসমিন এবং মেয়ের জামাতা কামাল খুবই ধার্মিক ছিলেন। তারা এলাকায় পানের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে পান ক্ষেতে কাজ শেষে সন্ধ্যার পর তার ছেলে জহিরুল হক এবং জামাতা কামাল প্রায় সময় হাসান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। বন্ধুর মতই সম্পর্ক ছিল তার সঙ্গে। কিন্তু কোন বিষয়ে কথাবার্তা হতো, সেটি জানতেন না।
অপরদিকে কামালের বাবা মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা থেকে ১০ বছর আগে তারা বাইশারীতে যৌথ খামার গ্রামে এসে বসবাস শুরু করে। কামালের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ নেই।
বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, যৌথ খামার পাড়াতে বসবাসকারীরা অধিকাংশই বহিরাগত। দুর্গম জনপদ হওয়ায় এখানে ভাসমান লোকদের আনাগোনা বেশি। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। বহিরাগত আগমন ঠেকাতে বাইশারী ইউনিয়নের প্রবেশমুখে পুলিশের তল্লাশি চেকপোস্ট বসানোর দাবি জানাচ্ছি।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু মুসা জানান, তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কেউ কখনো অভিযোগ করেনি। তাছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় কোন ধরনের জিডি করা হয়নি। সীতাকুন্ডে জঙ্গি আস্তানায় হতাহতদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি বাইশারীতে খবর পেয়ে তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জঙ্গি হামলায় নিহত জোবাইরা ইয়াসমিনের বাড়ি তল্লাশি করে জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে এরকম কোন কিছু পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) সীতাকুন্ডে ৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিতে ৫ জনের মৃত্যু হয়।

পড়ে দেখুন

চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেল ৫৮৭ পরিবার 

চট্টগ্রাম ব্যুরো :: প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চট্টগ্রাম জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন (৩য় পর্যায়) ৫৮৭টি পরিবারকে জমিসহ …