শিরোনাম
প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / তারা প্রাণ বাঁচাতে প্রাণ দিলেন

তারা প্রাণ বাঁচাতে প্রাণ দিলেন

কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে বন্ধ হয়ে যায় রাঙামাটির রাস্তাঘাট। আটকা পড়েন শতশত মানুষ। তাদের উদ্ধার করতে এসে উল্টো মাটির নিচে চাপা পড়েন পাশের ক্যাম্প থেকে আসা সেনাসদস্যরা। আর এতে প্রাণ হারান দুই কর্মকর্তাসহ চার সেনাসদস্য। আহত হয়েছেন প্রায় ১০ সেনা, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বিকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি হতাহত সব সেনাসদস্য ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিহত সেনাসদস্যরা হলেনÑ মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, করপোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহিন আলম। নিখোঁজ রয়েছেন সৈনিক মো. আজিজুর রহমান।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, টানা তিন দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে গত সোমবার থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় পাহাড়ধস। এতে করে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে বিভিন্ন সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা সোমবার থেকেই উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরে রাঙামাটির মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে রাঙামাটি জোন সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ওই সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। কাজের মধ্যেই বেলা ১১টার দিকে পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপর ধসে পড়ে। এতে তারা মূল সড়ক থেকে প্রায় ৩০ ফুট নিচে পড়ে যান। খবর পেয়ে একই ক্যাম্প থেকে আরও একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই কর্মকর্তাসহ চার সেনাসদস্যকে নিহত এবং ১০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে আসা হয়। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এক সেনাসদস্য।

দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান আমাদের সময়কে বলেন, রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কাজ চলাকালে এখন পর্যন্ত দুই সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছেন বাহিনীর চার সদস্য। এ ছাড়া একজন নিখোঁজ ও ১০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।

নিহতদের পরিচয়

পাহাড়ধসে নিহত দুই সেনা কর্মকর্তার মধ্যে মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংড়াইল থানায়। ৩৬ বছর বয়সী এই সেনা কর্মকর্তা ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্তর বাড়ি পটুয়াখালী। ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন। ২৭ বছর বয়সী এই সেনা কর্মকর্তা সদ্য বিবাহিত।

সেনাসদস্য করপোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হকের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৯৫ সালে। বিবাহিত এই সেনাসদস্যের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নিহত অপর সেনাসদস্য মো. শাহিন আলমের বাড়ি বগুড়ার আদমদীঘি। ২০০৬ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া এই সৈনিক এক ছেলের জনক। এ ছাড়া নিখোঁজ সৈনিক মো. আজিজুর রহমান ২০০৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। মাদারীপুরের এ সেনাসদস্যের এক মেয়ে রয়েছে।

পড়ে দেখুন

অধিক শস্য ফলনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পাশাপাশি সকলকে সঞ্চয় করার …