শিরোনাম
প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / রাঙ্গামাটিতে স্মরনকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে ঘটনায় , বসতবাড়ীর উপর মাটি চাপা পড়ে ৪ সেনা সদস্যসহ ৭৫ জন নিহত, আহত-৫৬

রাঙ্গামাটিতে স্মরনকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে ঘটনায় , বসতবাড়ীর উপর মাটি চাপা পড়ে ৪ সেনা সদস্যসহ ৭৫ জন নিহত, আহত-৫৬

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে  রাঙ্গামাটি জেলায় পাহাড় ধ্বসে ঘটনায় নিহতের সংখ্যা সর্বমোট ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান কন্টোল রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
এর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে পাবলিক ৩১ জন, রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে সেনা সদস্য ৪ জন, কাউখালী উপজেলায় ২১ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৫ জন, জুরাছড়ি ২ জন ও বিলাইছড়ি ২ জন মারা গেছে। এর মধ্যে শিশু হচ্ছে ১৮ জন, মহিলা ২০ জন পুরুষ ৩৭ জন। এর মধ্যে নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ৩০ জন। আহত হয়েছে ৭৭ জন। এর মধে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ কয়েকজন চলে গেলেও ৩৪ জনের মতো রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
রাঙ্গামাটি শহরে দুর্গতদের জন্য ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরের ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে প্রায় হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে বুধবার সকালে হেলিকপ্টার যোগে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর রাঙ্গামাটির ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
অপরদিকে মঙ্গলবার (১৩ জুন) দুপুরে সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক ও চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারের জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার রাঙ্গামাটির ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন।
গত তিন দিনের একটানা ভারী বর্ষনে রাঙ্গামাটিতে স্মরনকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে ঘটনায় বসতবাড়ীর উপর মাটি চাপা পড়ে ৬ সেনা সদস্যসহ ৭৫ জন নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে পাবলিক ৩১ জন, রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে সেনা সদস্য ৪ জন, কাউখালী উপজেলায় ২১ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৫ জন, জুরাছড়ি ২ জন ও বিলাইছড়িতে ২ জন মারা গেছে।
রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদী যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভেদভেদী, মানিকছড়ি, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠা অসংখ্য বসতঘরে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। রাঙ্গামাটি ফায়ার সাভির্সের উদ্ধার কর্মীদল ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাটি চাপা পড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে পাঠায় কর্তব্যরত ডাক্তার সকলকে মৃত ঘোষনা করে। এছাড়া পাহাড় ধসে আহত আরো একজন রাঙ্গামাটি হাসপাতালে মারা যায়। উদ্ধারকর্মীরা এখনো পাহাড়ের পাদদেশে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে সেনা সদস্য ৬ জনের মধ্যে ৪ জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন মেজর মাহাফুজ, ক্যাপ্টেন তানভির, কর্পোরল আজিজ, সৈনিক শাহিন। সকালে মানিকছড়িতে প্রকৃতিক দুর্যোগে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কে মাটি পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাস্তা পরিস্কারের কাজ করতে গিয়ে তারা পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে নিহত হন।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলাঃ সেনা সদস্য ০৪ জন সহ মোট ৩৫ জন। নিহতরা হলেন, ০১। মেজর মাহফুজ,  ০২। ক্যাপ্টেন তানভীর, ০৩। কর্পো আজিজ, ০৪। সৈনিক মোঃ শাহীন, ২০ বীর রাঙ্গামাটি রিজিয়ন। ০৫। নাইমা আক্তার(০৬), পিতা- শাহজাহান, পুলিশ লাইন,  ০৬। রুমা আক্তার(২৫) স্বামী- মোঃ সোহেল, ভেদভেদী নতুন পাড়া, ০৭। নুরী আক্তার (০৩) পিতা- মোঃ সোহেল, ০৮। হাজেরা বেগম (৪০) স্বামী- নবী হোসেন, ০৯। সোনালী চাকমা, (৩০) স্বামী- জীবন চাকমা, ১০। অমিয় চামমা (১০) পিতা- জীবন চাকমা, ১১। আইয়ুশ মল্লিক (২) পিতা- লিটন মল্লিক ১২। চুমকী মল্লিক(২২) স্বামী লিটন মল্লিক, ১৩। লিটন মল্লিক (২৮) পিতা- গোপাল মল্লিক, সনাতনপাড়া, ভেদভেদী, ১৪। মিল্টন/মিন্টু ত্রিপুরা (৪৫), পিতা-অরূপ ত্রিপুরা, রিজার্ভবাজার, ১৫। মিলি চাকমা (৫৫), স্বামী- সুদশী চাকমা, মনোঘর এলাকা ১৬। ফেন্সী চাকমা, পিতা- প্রদীপ চাকমা, মনোঘর,১৭। মাহবুব আলম (৫০), পিতা- সাদু রশিদ, গবঘোনা, মগবান ইউনিয়ণ, ১৮। মোঃ শাহীন (২৫) , পিতা- মৃতঃ শমসু মিয়া, ১৯। হিরনবী চাকমা, স্বামী- রবিন্দ্র লাল চাকমা, মরংছড়ি, মগবান, ২০। সীমা চাকমা (৩২), স্বামী- অনিল চাকমা, বালুখালী, ২১। সুজন চাকমা(৭) পিতা- অনিল চাকমা, বালুখালী, ২২। বন্যা চাকমা (৩) পিতা- অনিল চাকমা, বালুখালী।
কাউখালী উপজেলাঃ ২১ জন। এরা হলেন ০১। বৈশাখী চাকমা(০৭) পিতা- অমর শান্তি চাকমা, জুনুমাছড়া, ০২। মোঃ ইসাহাক মিয়া(৩০), পিতা- আব্দুর রশিদ, কাশখালী, ০৩। মোঃ মনির(৩০) পিতা- আব্দুর রশিদ, কাশখালী, ০৪। ফাতেমা বেগম (৬০), পিতা- আব্দুর রশিদ, কাশখালী, ০৫। নুসুমা বেগম, স্বামী- মোঃ সৈয়দ, ঘাগড়া বাজার, ০৬। অংচিং মার্মা (৫২) পিতা- অংচাংপ্রু মার্মা, রাউজান ঘোনা, ০৭। আশেমা মার্মা(৩৪), স্বামী- অংখ্যাইচিং মার্মা, রাউজান ঘোনা, ০৮। তেমা মার্মা(১২) পিতা- অংখ্যাইচিং মার্মা, রাউজান ঘোনা, ০৯। ক্যাথাইচিং মার্মা, পিতা- অংখ্যাইচিং মার্মা, রাউজান ঘোনা, ১০। লায়লা বেগম (২৮) স্বামী- দিদারুল আলম, সুগার মিল আদর্শগ্রাম। ১১। খোদেজা বেগম, ঘিলাছড়ি, ঘাগড়া, ১২। নুরজাহান বেগম (৮০), ঘিলাছড়ি, ঘাগড়া, ১৩। দবির উদ্দিন, (৯০) পিতা- সদু মন্ডল,, ঘিলাছড়ি, ১৪। শোভা রানী চাকমা(৫৫) স্বামী- মঙ্গল কুমার চাকমা, নোয়াপাড়া, ১৫। লাইপ্রু মার্মা (৬৫) স্বামী- মৃত ক্রেজাই অং মার্মা, দুপছড়ি, ফটিকছড়ি।  অপর ৬ জনের নাম পাওয়া যায়নি।
কাপ্তাই উপজেলাঃ /১৫ জন। এরা হলেন ১। নোমান (৫), চন্দ্রঘোনা, ০২। রুবি (২১) চন্দ্রঘোনা, ০৩। নুরুন্নবী (৫০) চন্দ্রঘোনা, ০৪। রমজান আলী(৫) কাপ্তাই, পিতা- মোঃ সেলিম, ০৫। আবুল হোসেন (৩২), পিতা- মোল্লা মিয়া, ০৬। রবি তঞ্চঙ্গ্যা(৩৩), পিতা- মৃতঃ নগেন্দ্র সেন তঞ্চঙ্গ্যা, ০৭। উচিংনু মার্মা (৪০), স্বামী- তিংসু মার্মা, রাইখালী, ০৮। নিতুই মার্মা(৬), পিতা- সাইহ্লাপ্রু মার্মা রাইখালী। ও অপর ৭ জনের নাম জানা যায়নি।
বিলাইছড়ি উপজেলাঃ ০২ (দুই) জন। হলেন  ০১। শহীদ, পিতা- অজ্ঞাত  ০২। রেঞ্জু, পিতা- অজ্ঞাত বিলাইছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
জুরাছড়ি উপজেলাঃ ০২ (দুই) জন। এরা হলেন ০১। চিত্রাঙ্গমুখী চাকমা (৫০), স্বামী- লুসাইমনি চাকমা, লুলাংছড়ি গন্ডিছড়া, ০২। বিশ্বমনি চাকমা (১০), পিতা- সুজন চাকমা, লুলাংছড়ি, গন্ডিছড়া।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, রাঙ্গামাটিতে এতোবড় দুর্যোগ হয়তো আগে ঘটেনি। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা ৭৫ জন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমরা খবর নেয়া চেষ্টা চালাচ্ছি সঠিক তথ্য নেয়ার জন্য। প্রতি ক্ষনে ক্ষণে আমাদেরকে এখনো তথ্য আসছে। তিনি বলেন, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয় থেকে আমাকে জানিয়েছে যে কোন সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যে যেখানে যেভাবে পারে দুর্গম মানুষের পাশ দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে কাপ্তাই উপজেলায় রাইখালী ও উপজেলা সদরে বাড়ীঘরে পাহাড় ধসে মাটি চাপা কাউখালীর কাশখালীতে এবং রাঙ্গামাটির ভেদভেদী এলাকায় মাটি চাপা পড়া আরো বেশ কজন লোক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে উদ্ধার কর্মীরা।
পাহাড় ধসের ঘটনায় আহত ৭৭ জন রাঙ্গামাটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রাঙ্গামাটিতে স্মরণকালের বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটিতে দূর্যোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি শহরে নিন্মঞ্চলের বাড়ীঘরে পানি ঢুকে পরেছে।
রাঙ্গামাটি আবাহাওয়া গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪৩দশমিক ৪মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। রাঙ্গামাটি শহরে ওমদামিয়া হিল, পর্যটন এলাকা, আনন্দ বিহার, পুরাতন হাসপাতাল, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদী, রাঙ্গাপানি ও শিমুলতলী’সহ রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অসংখ্য কাচা ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শহরের রাস্তার বিভিন্ন অংশে মাটি ভেঙ্গে পড়ায় অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একটানা ভারী বর্ষনে রাঙ্গামাটি শহরে গত ৩দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘœ ঘটায় টেলিযোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি ভেঙ্গে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী’সহ স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যহত হচ্ছে। রাঙ্গামাটি হাসপাতালে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডাক্তার ও নার্সদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা সকালে পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নিহত পরিবারদের মাঝে জেলা পরিষদ থেকে নগদ ২০হাজার ও আহতদের মাঝে ২০কেজি খাদ্যশষ্য ও ১হাজার টাকা করে প্রদান করেছেন।
রাঙ্গামাটি শহরে ১০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে দূর্গত এলাকা থেকে এখনো লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে পারেনি।
এদিকে, রাঙ্গামাটিতে স্মরণকালের বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটিতে দূর্যোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি শহরে নিন্মঞ্চলের বাড়ীঘরে পানি ঢুকে পরেছে। রাঙ্গামাটি আবাহাওয়া গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪৩ দশমিক ৪মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

পড়ে দেখুন

অধিক শস্য ফলনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পাশাপাশি সকলকে সঞ্চয় করার …