শিরোনাম
প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / শিশুর জীবন বাঁচাতে আলেয়ার পায়ে হেটে যাত্রা

শিশুর জীবন বাঁচাতে আলেয়ার পায়ে হেটে যাত্রা

॥ নন্দন দেবনাথ ॥ অসুস্থ সন্তানের জীবন বাঁচাতে শিশু পুত্র জিসানকে কোলে নিয়ে পাহাড়ী পথ হেটে ছুটে চলেছেন মা আলেয়া বেগম।  গন্তব্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। সাথে রয়েছে স্বামী বজলুর রহমান আর স্বজন। শিশুর এক হাতে স্যালাইন আর মুখে অক্সিজেন মার্কস। সিলিন্ডার হাতে নিয়ে শিশু পুত্র নিয়ে ছুটেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে। এমনই চিত্র দেখা গেছে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের নিশ্চিন্ন হয়ে যাওয়া শালবাগানের ধেপ্পাছড়ির পাহাড়ের ধ্বংস্তুপের মাঝে।  এই অবস্থা দেখে রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসে কর্মকর্তা সুমিত চাকমা শিশুকে কোলে নিয়ে এবং অন্য সদস্যরা অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ধ্বংসস্তুপের বিশাল এই পথ এগিয়ে দেয়।
গত ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে লোকনাথ মন্দির এলাকার পেছনে পশ্চিম মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা আলেয়া ও বজলুর বাড়ীতে মাটি চাপা পড়ে। বাড়ীতে মাটি চাপা পড়লে ধ্বংস্ স্তুপ থেকে মা আর শিশুকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ৫ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হলে শিশু জিসানের জীবন বাঁচাতে মা আর বাবা ছুটে চলেছেন চট্টগ্রাম হাসপাতালের দিকে।
জীবন মৃত্যুর সন্দিক্ষণে মায়ের চোখের অস্ত্রু আর বাবার মুখে অসংখ্যা নিয়ে শিশু জিসানকে নিয়ে ছুটে চলেছেন তারা। আশা অতটুকুই কয়েক মাইল পায়ে হেটে পাড়ি দিতে পারলে হয়তো তাদের আদারের সন্তান বেঁচে যাবে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শিশু পুত্রের মুখ থেকে অক্সিজেন মার্কস খোলা সম্ভব হচ্ছে না।
গত ৫ দিন ধরে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশু জিসানের মতো আরো অনেককেই চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম যেতে হয়েছে এভাবেই। রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে পানি পথে চট্টগ্রাম যাওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেক বেশী সময় লাগবে এ আশংকায় দুসহ কষ্ট সয়েও পাহাড়ী উচু নিচু পথ পায়ে হেটে যাতায়াত করছেন অনেকেই। শুধু রোগী নয় জরুরী প্রয়োজনে মানুষ পানি পথে না গিয়ে বন্দুর পথ পাড়ি দিচ্ছেন। অনেকেই মালামাল নিয়েও যাতায়াত করছেন।
রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সাথে সাথে রাঙ্গামাটিতে অনেক পন্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে কোন পর্যটক নেই। কুরিয়ার সার্ভিস ও ডাক বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অভিজাত চট্টগ্রামের মিষ্টি বিপনী গুলোর পণ্য সরবরাহ না থাকায় রাঙ্গামাটির অনেক বেকারী ক্রেতা শূণ্য।
ঔষধের ফার্মেসীতে কোম্পানী গুলোর পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যান গুলো আসতে না পারায় ঔষধ সরবরাহ বন্ধ। রাঙ্গামাটির মৌসুমী কৃষি পন্য আনারাস কাঠাল আম পরিবহণের অভাবে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য সেনাবাহিনী ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক পুনরায় চালু করার জন্য পুরো দমে কাজ করে যাচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ পুনস্থাপিত হলে এই সংকট লাঘব হবে। তবে আগামী এক মাসেরও বেশী সময় এই সরবরাহ সংকট থেকে যাবে বলে আশংকা রয়েছে সাধারণ মানুষের।
পুনশ্চঃ
বাঁচানো গেলোনা শিশু পুত্র জিসানকে। ৫ দিন রাঙ্গামাটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ থাকার পর গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাওয়ার পথে রাউজানের গহিরায় মারা যায় শিশু জিসান। শনিবার রাতে জিসানের মরদেহ পুনরায় নিয়ে আসা হয় রাঙ্গামাটিতে। পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরো একটি বেড়ে ১১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

পড়ে দেখুন

অধিক শস্য ফলনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পাশাপাশি সকলকে সঞ্চয় করার …