শিরোনাম
প্রচ্ছদ / খাগড়াছড়ি / খাগড়াছড়িতে : উভয় পক্ষের মধ্যে এই পর্যন্ত ৩ জন নিহত, ১৮জন আহত

খাগড়াছড়িতে : উভয় পক্ষের মধ্যে এই পর্যন্ত ৩ জন নিহত, ১৮জন আহত

॥ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, খাগড়াছড়ি ॥ খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তারে সহিংসতা, বাড়ছে আঞ্চলিক পৃথক ২ সংগঠনের মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে এই পর্যন্ত ৩ জন নিহত, ১৮জন আহত হয়েছে। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ তুলে খাগড়াছড়িতে ‘গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’ নামক পাল্টা কমিটি গঠনের পর থেকে পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সড়ক অবরোধ কর্মসূচিসহ বেশ কয়েক দফা সশস্ত্র মহড়া, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং অগ্নি সংযোগের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে খাগড়াছড়ি জেলা জুড়ে। গত বুধবার পাল্টা কমিটি গঠনের পর পর বৃহস্পতিবার ইউপিডিএফের ডাকে ধর্মঘট পালন কালে পিকেটারদের হামলায় বেশকিছু যানবাহন ভাঙচুরের পর থেকে উভয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠেছে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে অভিজ্ঞ মহল আশঙ্কা করছেন পাহাড়ি সংগঠন গুলোর এমন সহিংস তৎপরতা অব্যাহত ভাবে চলতে থাকলে হত্যা, গুম, অপহরণ এর মতো ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে। সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার দুপুরে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলা সদরে প্রসীত খীসা সমর্থিত ইউপিডিএফ এর একটি কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। তাছাড়া গত ১৭ নভেম্বর বিকালে খাগড়াছড়ির জিরো মাইল জেলা পরিষদ পার্ক এলাকা থেকে পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমাকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
জেলা শহরের নারায়ান খাইয়া এলাকায় পাহাড়ি সংগঠনের দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গত রবিবার সকালে দীঘিনালা কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন সশস্ত্র হামলা চালিয়ে জেএসএস এর ৬ জনকে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রধান প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সংগঠনের ভিন্নমত পোষণকারী নেতাদের একটি অংশ গত কিছুদিন আগে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে। এ সাংবাদিক সম্মেলনে তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা ও জলেয়া চাকমা তরুর নেতৃত্বে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে পৃথক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের এসব ঘটনা সম্পর্কে কেউই থানায় অভিযোগ আনতে রাজি হননা। পার্বত্য জেলায় চাঁদাবাজি রুখতে জনসাধারণ কে সচেতন করা হচ্ছে।
এদিকে মধ্য পৌষের শিশির স্নাত প্রভাত আজকের লাল টকটকে সূর্যসহ নিয়ে এলো নতুন বছর। এর মাধ্যমে বিদায় নিল পুরনো জরা ও বিষাদ। নতুন বছরে শান্তিপূর্ণ ও জঙ্গিবাদমুক্ত কার্যকর অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বপ্নের কথা বলেছেন খাগড়াছড়ি জেলার বিশিষ্ট নাগরিকেরা। তারা বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অবসান ঘটে। পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সংঘাত হানাহানি মুক্ত অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠার পুন: স্বপ্ন দেখে। সরকারে আন্তরিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চলমান রয়েছে নানামূখী উন্নয়ন প্রকল্প। বাস্তবায়ন করা হয় শান্তি চুক্তির অধিকাংশ ধারা ও উপধারা। কিন্তু বিপদগামী কিছু লোকের অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত কিছু ভ্রান্ত ধারনায় চুক্তি পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক দল গুলোর সশ্রস্ত্র সাংগঠনিক কার্যক্রম পাহাড়ের উন্নয়ন কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভাতৃঘাতী ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাড়ছে। এসব আঞ্চলিক সংগঠনের চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণের কাছে জিম্মি সাধারণ নিরিহ উপজাতী ও বাঙ্গালীরা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান ছিল বিদায়ী বছরে। বিদায়ী বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামেও শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র গোলা-বারুদ উদ্ধারে আইন শৃংখলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রেখেছে। ২০১৮ সালেও সম্মিলিত ভাবে অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিনির্মাণে সুশিক্ষা, সুষ্ঠু সংস্কৃতি ও বিনোদনচর্চা, সুস্থ রাজনীতি ও গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সমঝোতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মস্থান ও দক্ষতা, সাধারণ মানুষের উপযোগী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সরকারের কাছে।
ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্ত নির্দিষ্ট করণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও আন্তরিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শান্তি ফিরে এসেছে। দেশ থেকে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কেউ শান্তি বিনষ্ট করতে চাইলে তাদের পরিনতিও একই হবে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে আওয়ামীলীগ সরকার। এরই মধ্যে অনেক শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি কার্যকর হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা এরই মধ্যে সেইযুদ্ধে অনেক দূর এগিয়েছি। সারা দেশের ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামেও যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পাহাড়বাসী মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়েছে। ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়নের সব সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এরই মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছেছি আমরা। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে আমরা দ্রুত আরও উন্নতি করতে পারব।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট আবদুল মালেক মিন্টু বলেন, ২০১৭ সালে বিএনপিসহ বিরোধীদের মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ করার অধিকার ছিলনা। অথচ এটা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মৌলিক অধিকার। দেশে কোনো গণতন্ত্র আছে বলে মনে হয়না। এ গণতন্ত্রহীন অবস্থার সুযোগে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে সরকার। শুধু আমরাই না, দেশের প্রতিটি মানুষ আশা করে, নতুন বছরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে ও দেশ জঙ্গিমুক্ত হবে। অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধৈয্য, বাস্তবতা মেনে নেওয়া আর সততার আস্থা এবং বিশ্বাস একে অপরের প্রতি স্থাপন করতে পারলেই সংঘাতমুক্ত অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্রগ্রাম গড়া সম্ভব।
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান আলকাছ আল মামুন ভূইয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং এই চুক্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো লুট পাটের আকড়ায় পরিণত হয়েছে। পাহড়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থ সুষম বন্টন হচ্ছে না, একটি বিশেষ সম্প্রদায় এসব অর্থের আংশিক সুবিধা গ্রহণ করলেও বিশেষ একটি অংশকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাকীটা অনির্বাচিত নেতা-কর্মীদের পকেটস্থ হচ্ছে। আঞ্চলিক পরিষদসহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রমের জবাব দিহিতা নিশ্চিত করে এই অঞ্চলে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের নাগরিকদের সমাধিকার বা সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বৈষম্য, ধর্মে ধর্মে বিভেদ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা সহ নানা দিক থেকে বৈষম্য  জিইয়ে রেখে পার্বত্যাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন যেমন সম্ভব নয় তেমনি সংঘাতমুক্ত অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় সুস্থ ধারা ফিরে আসার প্রত্যাশা জানিয়েছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি রাণী ত্রিপুরা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়রা এখনো সমতলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আনুপাতিক হারে এই অঞ্চলে উপজাতী বেশি। তাছাড়া বাঙ্গালীরা আমার ভাই। এক তরফা চিন্তা না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় সকল সম্প্রদায়ের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। দলাদলি, হানাহানি, সংঘাতমুক্ত আগামী পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের কাম্য।
নতুন বছর কেমন দেখতে চান- এমন প্রশ্নের জবাবে খাগড়াছড়ি জেলা বার এসোসিয়েশনের সিনিয়র আইনজীবী মো. আবদুলমমিন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি মিশ্র ফুলের বাগান। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও সংবিধানের প্রতি সকলের শ্রদ্ধা রাখা উচিত। শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন যাতে বাঁধাগ্রস্ত না হয় সেসকল কর্মকান্ড থেকে সকর সম্প্রদায়ের নেতা-কর্মীদের সরে আসতে হবে। পাহাড়ে শান্তি বিনষ্ট কারীরা এখন চিহিৃত। তাদের কাছে সাধারণ পাহাড়ী বাঙ্গীরা অনেকাংশেই জিম্মি। পার্বত্য চট্টগ্রাম কোন একটি সম্প্রদায়ের নয়, সকলরে সমান অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক পরিষদ, তিন জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে সকল সম্প্রদায়ের জন্য উন্মোক্ত করে দিতে হবে। শিক্ষা চাকুরিসহ সকল ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি পরিহার করে সকলকে সমকোটা বা সাধারণ কোটায় সম্পৃক্ত করলে কোন জনগোষ্ঠি বঞ্চিত হবে না। সংঘাতমুক্ত অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম বির্ণিমানে এর বিকল্প নেই।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র খাগড়াছড়ির সভাপতি বোদিসত্ত্ব দেওয়ান বলেন, ২০১৮ সাল একটি শান্তিপূর্ণ ও নির্মল পরিবেশের স্বপ্ন দেখি। সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও ভাতৃঘাতি সংঘাত নিরসনে সকল রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমঝোতা হবে। যাতে করে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে। আগামী প্রজন্ম যাতে বিপদগামী না হয়, ভুল পথে পা না বাড়ায় সেখান থেকে দূরে রাখতে হবে। উভয়পক্ষে দাবী করেছে, ইউপিডিএফ’র ৩ জন নিহত হয়েছে এবং অন্তত ১৮ জন আহত আছে। এর বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ এলাকায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পড়ে দেখুন

অধিক শস্য ফলনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পাশাপাশি সকলকে সঞ্চয় করার …