শিরোনাম
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / বিবিসির প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার পূরণের বাস্তব চিত্র

বিবিসির প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার পূরণের বাস্তব চিত্র

বিবিসির প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার পূরণের বাস্তব চিত্র বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ওয়াদা আর অঙ্গীকারের বাস্তব চিত্র — (১৯৯১- ১৯৯৬) শাসনামলে বিএনপি সরকার পূরণ করছে ৩৩% (১৯৯৬-২০০১) শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকার পূরণ করছে ৫২% (২০০১-২০০৫) শাসনামলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পূরণ করছে ২৪% (২০০৮-২০১৪) শাসনামলে আওয়ামী লীগ মহাজোট সরকার পূরণ করছে ৬৭% (২০১৪-২০১৮) শাসনামলে আওয়ামী লীগ মহাজোট সরকার পূরণ করছে ৮২%। এযাবৎ কালে আওয়ামী লীগ যে অঙ্গীকার করেছে তার বেশিরভাগ পূরণ করেছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি একটি জরীপ সমীক্ষায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণটি উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল উন্নয়ন বান্ধব , তবে এর ধারাবাহিকতা তারা শুরু করেছিল ২০০৮ এর নির্বাচনী ইশতেহারে। মুলত তারুণ্য , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর তথ্য প্রযুক্তির উপর ভর করেই – ২০০৮ সালে এই দল নতুন আঙ্গিকে যাত্রা করেছিল – দেশ পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে। ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটা সুস্পষ্ট ঘোষণা তরুন প্রজন্মের ভোটাররা আগ্রহ নিয়ে গ্রহণ করেছিল – তা ছিল ক্ষমতায় আসলে তারা ১৯৭১ সালে মানবতা অপরাধে অপরাধীদের বিচার করবে। মূলত ২০০৮ সরকারের সাফল্য আর তাদের অঙ্গীকার পূরণে সক্ষমতা – বাংলাদেশের মানুষের মাঝে স্বপ্নের বীজ বুন্তে সাহায্য করেছিল – আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকার বারবার বলেছে – দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই তারা নির্বাচনী ইশতেহারে যে উন্নয়ন আর আধুনিক বাংলাদেশের কথা বলেছিল , তা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালণ করার চেষ্টা করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আওয়ামী লীগ সরকার এই পাঁচ বছরে করতে পেরেছে বলেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে প্রায় সবকটি মেগা প্রকল্প, এই বিষয়টি বা ওয়াদা রক্ষার বেপারটি বাংলাদেশের মানুষের খুব মনে ধরেছে। পদ্মাসেতু আজ স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও মেট্রোরেল, পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো- ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ এবং মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। ২০০৯-১০ সালের বাজেটে মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ওয়াদার প্রথম বিষয়টি ছিল বিশ্ব মন্দার মোকাবেলা, দ্রব্যমূল্যের হ্রাসকরণ এবং দেশজ উৎপাদন বাড়িয়ে বা যথাসময়ে আমদানি করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আরেকটি অঙ্গীকার ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুত্ সংকটের সমাধান এবং সেই লক্ষ্যে একটি জরুরি কার্যক্রম বাস্তবায়ন। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে আজ উন্নয়ন বাজেটের আকার দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দেশ এখন পারমানবিক বিদ্যুত্ প্রকল্প, স্যাটেলাইট প্রকল্পের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে শুধু ঘোষণা বা পাঠ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা – তারা এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে সমর্থ হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় সরকার দশটি বৃহৎ প্রকল্পকে মেগা প্রজেক্ট হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এগুলো হলো—পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প বা রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। আওয়ামী লীগের বিগত টার্মের নির্বাচনী ইশতেহার আর তাদের সফলতা বিশ্লেষণের একটা নজির দেখলেই বুঝা যায় – ১)নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে বাংলাদেশকে উন্নীত করা হয়েছে। ২) দারিদ্র হার ২১.৫% কমেছে। ৩) উন্নয়নের সুচক বেড়েছে ৭.৮% ৪)সাক্ষরতার হার ৭৩% উন্নীত হয়েছে। ৫) মাথাপিছু আয় ১৭৫২ ডলার ৬) বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৪০০ মেগাওয়াট ৭) সফল্ভাবে জঙ্গিবাদ দমন । কথা দিয়ে কথা রাখে আওয়ামী লীগ । আর বিএনপি ও তার শরীকরা ক্ষমতায় এসেই লুটপাট করে এর প্রমাণ তাদের ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তারা দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাঁচ বার। একটা কথা মনে রাখতে হবে বিএনপি শুধু নির্বাচনের আগেই নিয়ম রক্ষার জন্যই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। এই পর্যন্ত কোনও সময়ই তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে মাথা ঘামায়নি ক্ষমতায় আসার পর, নিজেদের বাণিজ্যেস্বার্থে এবং সুবিধা বুঝেই এরা দেশ চালায়। আসুন জনবান্ধব দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগ সরকারকে আমরা আরেকবার দেশ পরিচালনার সুযোগ দেই , মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা – দেশের প্রতি মমতা এই দলটিই ধারণ করে। এবারো ২১ টি ওয়াদা নিয়ে তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে – এই ঘোষণাগুলো যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বাস্তবায়ন করে তবে দেশকে নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ থাকবেনা। দেশের জনগণ নিজেদের স্বার্থেই এবং দেশের মঙ্গলের জন্যই আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে এটাই আমাদের বিশ্বাস।

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …