শিরোনাম
প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে বরণ

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে বরণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে বরণ করে নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। ঢাকা থেকে ফেরার পর চট্টগ্রাম রেল স্টেশন চত্বরে নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। এসময় হাজারো নেতাকর্মীর বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন মেয়র প্রার্থী ও নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী।
ট্রেন থেকে নামার পর ব্যান্ডপার্টির তালে তালে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে মঞ্চে আনা হয়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমি জয়ী হলে চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি বসবাসযোগ্য, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়তে কাজ করব। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তার মর্যাদা রক্ষা করব। জহুর আহমদ চৌধুরী, এমএ আজিজ, মহিউদ্দীন চৌধুরীর পথ অনুসরণ করব।
চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে  দুপুরে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন চত্বরে আগমন উপলক্ষে বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। মহানগর প্রভাতী ট্রেনযোগে রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে এসে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা তাকে বরণ করে নেন। এরপর আওয়ামী লীগের স্থাপিত ট্রাক মঞ্চে উঠে নেতাকর্মীদের সালাম ও শুভেচ্ছা জানান।
সংবর্ধনা সভার প্রথমে রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতা শেখ মোজাফফর আহমেদ, মরহুম আমির হোসেন দোভাষ, এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ হান্নান, এম এ মান্নান, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার, মো. ইসহাক মিয়া, সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, কাজী ইনামুল হক দানুসহ সকলকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এদের কাছ থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি পেয়ে আমি আজ এই জায়গায় এসেছি। নেত্রী আমাকে যে জায়গায় এনেছেন আমি অবশ্যই এই জায়গাটা দৃঢ় করব। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নির্বাচনে যদি জয়ী হতে পারি তাহলে মানুষের পাশে থাকব। চট্টগ্রামে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে তা আরও এগিয়ে নিতে কাজ করব।
রেজাউল করিম বলেন, মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা ছিলেন তারা সবাই যোগ্য ছিলেন। কিন্তু নেত্রী আমাকে বেছে নিয়েছেন। আমার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। আমি তার প্রতিদান দেব। আমি শেখ হাসিনার প্রতিনিধি, এছাড়া আর কিছু নয়। কথা দিতে পারি, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৭ বছর এই চট্টলবাসীর সেবা করেছেন। এই চট্টগ্রামকে সমগ্র বাংলাদেশে একটা মডেল সিটি হিসেবে উপহার দিয়েছেন। তার পরে পাঁচ বছর সিটি কর্পোরেশন আমাদের হাতে ছিল না। আবার ২০১৫ সালে এই সিটি কর্পোরেশন আমাদের হাতে এসেছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরী যে উন্নয়ন করেছেন সেই উন্নয়নের ধারা বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির অব্যাহত রেখেছেন। আমি যদি আপনাদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হতে পারি, সেই ধারা বহমান রাখব।’
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে পাশে নিয়ে রেজাউল জানান, সিডিএ চট্টগ্রাম নগরীর যে উন্নয়নের ধারা শুরু করেছে, নির্বাচিত হলে সেই ধারা বহমান রাখব। তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। চট্টগ্রামের উন্নয়নের কাজে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সরকারি এবং আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাষিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করব। চট্টগ্রামের নাগরিকদের অসুবিধা হয় এরকম কোনো অনিয়ম আমার পূর্বসূরীরা করেননি, আমিও করব না। তিনি বলেন, একজনের পক্ষে নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। আমি চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, পেশাজীবী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল এবং প্রগতির পক্ষে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে ও বঙ্গবন্ধুর আর্দশের পক্ষে, সেই সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে পরামর্শ করে এই চট্টগ্রামের হৃত গৌরব ফিরিয়ে দিতে চাই। এই চট্টলা একসময় সৌন্দর্যের রাণী ছিল। পাহাড় কাটার ফলে চট্টলা ধ্বংসের মুখে, নদী দূষণে কর্ণফুলী আজ মরে যেতে বসেছে। আপনাদের ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি এই চট্টগ্রামকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন, দুর্নীতিমুক্ত, নির্মল, পরিবেশবান্ধব করব।’
জলাবদ্ধতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই লালদিঘীর মাঠে বলেছিলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিজ কাঁধে নিয়েছি। এই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য তিনি আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্প সিডিএকে দিয়েছেন। এটা যদি সফল হয় তাহলে অনেকাংশে আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব। আমি নির্বাচিত হলে এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য যা যা করা দরকার তা সবই করব।’
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি অনেক মজবুত। এখানকার নেতাকর্মীরা আমার জন্য যে অবদান রেখেছেন তা কোনো ভাবে ভুলবার নয়। আমি আশাবাদী, এই সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মেয়র পদে জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিমকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করতে পারব, ইনশাল্লাহ।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাঠির মানুষকে রাজনীতিতে পছন্দ করেন বলেই এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র পদে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে যিনি গ্রহণযোগ্য, তাই তাকে নেত্রী বেছে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাকে বিজয়ী করার আমাদের দায়িত্ব।
মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা। তারই বহিঃপ্রকাশ রেজাউল করিম চৌধুরী। আমাদের বিশ্বাস, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে মেয়র পদটিই আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিব।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আতা, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, এম এ রশিদ, কোষাধ্যক্ষ আবদুস সালাম, উপদেষ্টা সফর আলী, এনামুল হক চৌধুরী, শেখ মাহমুদ ইসহাক, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দীন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমশের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুন চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, হাজী জহুর আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, জালাল উদ্দীন ইকবাল, দেবাশীষ গুহ বুলবুল, আবদুল আহাদ, মো: শহীদুল আলম, জহর লাল হাজারী, গাজী শফিউল আজিম, আবুল মনসুর, কামরুল হাসান বুলু, সৈয়দ আমিনুল হক, সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, আবদুল লতিফ টিপু, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি বখতেয়ার উদ্দীন খান, সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুবুল হক চৌধুরী এটলী, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এড. আবুল হোসেন মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক কে বি এম শাহজাহান, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, মাহবুবুল হক সুমন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।
এছাড়া ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের স্ব স্ব ব্যানারে নেতাকর্মীরা স্বতস্ফূর্তভাবে মিছিল সহকারে বরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সমাবেশ শেষে রেজাউল করিম চৌধুরী হযরত আমানত শাহ মাজার জিয়ারত শেষে নিজ বাড়ি বহদ্দার বাড়িতে গিয়ে তার মরহুম পিতা মাতার কবর জিয়ারত করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতৃবৃন্দের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে জানান।

পড়ে দেখুন

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

“চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ রক্ষা” পরিষদের নিয়মিত মাসিক সভায় সম্মানিত সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ এর …