শিরোনাম
প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত সভা ::

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত সভা ::

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদ বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। করোনা শনাক্তকরণ কীট ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) প্রতিষ্টানে প্রথমে করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। করোনা বিষয় নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। ইতালী, চীন, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশ থেকে চট্টগ্রামে আসা বাংলাদেশী লোকজনের মধ্যে এ পর্যন্ত একজনেরও করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়নি। তবে বিদেশ যাত্রীরা এখানকার বিমান বন্দরে নামার পর থার্মাল স্ক্যানার, হেলথ থার্মার ও হ্যান্ডহেল্ড মিটার দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁচি বা করোনার লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক তাদেরকে প্রত্যেককে ১৪ দিনের জন্য সরাসরি নিরাপদ হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। কেউ হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্য করলে তাদের জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাসহ ব্যবস্থা রয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের নামে বাইরে চলাফেরা বা ঘুরাঘুরি করছে কি না তা তদারকি করা হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদেরকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। কেউ হোম কোয়ারেন্টাইন না মানলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হবে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ করোনা ভাইরাস রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশে পর্যাপ্ত পরিমান খাবার সামগ্রী মজুদ রয়েছে। করোনা নিয়ে কোন ধরনের গুজবে কান দেয়া যাবেনা। সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে। তাই কোন শিক্ষার্থী ঘরের বাইরে যেতে পারবেনা। আজ ১৯ মার্চ ২০২০ ইং বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সভার আয়োজন করেন।
সভায় বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য ) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা বেশি জরুরি। আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শুধু করোনা রোগী রাখার বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অন্যান্য রোগীদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হবে। বিআইটিআইডি, রেলওয়ে হাসপাতাল ও বন্দর হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের বেশ কিছু হাসপাতালে আইসুলেশন বেড প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়্ াহয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাদ দিয়ে তিনি জানান, ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৯হাজার ১১১ জন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আক্রান্ত ৫০৮ জন এবং বাংলাদেশে আক্রান্ত ১৪ জন। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৫২৫ জন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১২৪ জন এবং বাংলাদেশে ৪ জন। বিশ্বে মোট মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ৭ হাজার ৪২৬ জন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৯ জন এবং বাংলাদেশে ১ জন। এ দেশে গত ২৪ ঘন্টায় কোভিড-১৯ টেস্টের সংখ্যা ১০ ও গত ২১ জানুয়ারী থেকে অদ্যাবধি ৩৫১ জন, পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ৪ ও গত ২১ জানুয়ারী থেকে অদ্যাবধি ১৪ জন। আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে গত ২৪ ঘন্টায় স্ক্রিনিংকৃত যাত্রীর সংখ্যা ২৬৮৫ জন, সমুদ্র বন্দরে ৩৩০ জন, স্থল বন্দরে ৩৭৮০ জন সহ সর্বমোট ৬৭৯৫ জন। গত ২১ জানুয়ারী থেকে অদ্যাবধি এসব বন্দরে স্ক্রিনিংকৃত মোট যাত্রীর সংখ্যা ৬৩১৫৩৮ জন। গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৫৪৯ জন ও প্রাতিষ্টানিক কোয়ারেন্টাইনে ৮ জন। গত ১০ মার্চ থেকে অদ্যাবধি কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৬৩৯৩ জন যাত্রী এবং আইসুলেশন সংক্রান্ত লোকের সংখ্যা ৫৮ জন ও ছাড়প্রাপ্ত ৩৫ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস.এম হুমায়ুন কবির বলেন, প্রত্যেকের নিরাপত্তার প্রয়োজন। চমেক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী আপাতত না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। কারণ এতে হাসপাতালে ভর্তি অন্য রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের পিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, করোনা নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা পুলিশের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এ সংক্রান্তে যে কমিটি রয়েছে তাদেরকে প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। সাবান ও পানি দিয়ে ঘনঘন পুরো হাত ধোয়ার পাশাপাশি অ্যালকোহলমুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে তালুসহ হাত পরিস্কার রাখতে হবে। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় হাতের কনুইয়ের ভাঁজে বা টিস্যু দিয়ে নাক ঢাকতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যুটি দ্রুত বন্ধ বিনে ফেলে স্যানিটাইজার বা সাবান ও পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করতে হবে। পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপরিস্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক, ও মুখ স্পর্শ করা যাবেনা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ নুরুল আলম নিজামী, বিজিবি’র পরিচালক লেঃ কর্ণেল মোঃ মুনির হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ ইকবাল হোসেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক মোঃ সামছুল আলম, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), তন্ময় দাস (নোয়াখালী), মাজেদুর রহমান (চাঁদপুর), একেএম মামুনুর রশীদ (রাঙ্গামাটি), আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), মোঃ কামাল হোসেন (কক্সবাজার), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস (খাগড়াছড়ি), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফেনী), হায়াত-উদ-দৌলা খান (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া), ডিআইজি (প্রিজন) ফজলুল হক, র‌্যাবের সিইও কর্ণেল মশিউর রহমান, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান পাটওয়ারী, পাসপোর্ট অফিসের বিভাগীয় পরিচালক মোঃ আবু সাঈদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ নুর উল্লাহ নুরী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক নুসরাত সুলতানা, চট্টগ্রাম জেলা পিপি এডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চোরাচালান নিরোধ ট্রাইবুন্যালের স্পেশাল পিপি এডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তী, মহানগর পিপি এডভোকেট ফখরুদ্দিন। সভায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পড়ে দেখুন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের …