শিরোনাম
প্রচ্ছদ / চট্টগ্রাম / করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে ঘরে থাকতে হবে ঃ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে ঘরে থাকতে হবে ঃ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম ব্যুরো :: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদ বলেন, করোনাভাইরাসের চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। করোনার কারণে সরকার সারাদেশে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছে। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে আপাতত রাস্তায় বের হওয়া যাবেনা, ঘরেই থাকতে হবে। অন্যকেও ঘর থেকে বের না হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। আইন অমান্য করে কেউ ঘর থেকে বের হলে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। রিক্সা থেকে শুরু করে সড়কে কোন যানবাহন চলতে পারবেনা। চট্টগ্রামে করোনা সনাক্তের জন্য এক হাজার কিট ও সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রয়েছে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি ও হাঁচি নিয়ে হাসপাতালে গেলে আতংকিত না হয়ে রোগীর শরীরে করোনার লক্ষণ আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি রোগীর নমুনা সংগ্রহ করবে। রোগীর শরীরে করোনা পজেটিভ হলে বিআইটিআইডি, জেনারেল হাসপাতাল, বেসরকারী পার্কভিউ হাসপাতাল, ইম্পেরিয়েল হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে আইসোলেশন বেড এবং ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্য যেসব বেসরকারী হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সমৃদ্ধ আইসিইউ বেড সুবিধা রয়েছে সেগুলোকেও পর্যায়ক্রমে করোনা রোগীদের চিকিৎসার স্বার্থে ব্যবহার করা হবে। আইসোলেশনে থাকা কোন রোগীর মৃত্যু হলে ঐ রোগীর মৃত্যু করোনায় কী না তা মেডিকেল টেস্টের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা যাবেনা। করোনায় মারা যাওয়া রোগীদেরকে সরকারীভাবে দাফন ও দাহ করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। করোনা রোগী সংক্রান্তে বিভাগীয় পর্যায়ের যে কোন তথ্য দিতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একটি মিডিয়া সেল থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মিডিয়া সেল থেকে ফোকাল পারসন হিসেবে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে তথ্য সরবরাহ করবেন তিনি। আজ ২ এপ্রিল ২০২০ ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্টিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির ঝুঁকি এড়াতে মানুষকে বের না হয়ে নিরাপদে ঘরে থাকতে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া যাবেনা। এলাকার রিক্সা শ্রমিক থেকে শুরু করে সকল পরিবহন শ্রমিক, দিন মজুর, বেদে সম্প্রদায়, সাপুড়ে, তৃতীয় লিঙ্গসহ হতদরিদ্র মানুষকে সরকারী-বেসরকারীভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এসব ত্রাণ সুষ্টভাবে বন্টনের আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নগরীতে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে। কমপক্ষে তিন ফুট দুরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ দিতে হবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন জেলা পর্যায়ের ফোকাল পারসন। ত্রানের নামে কিছু কিছু সংগঠনের ফটোসেশন বন্ধ করতে হবে। ত্রাণের নামে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবেনা। যারা পেটের তাগিদে ঘর থেকে বের হয়ে সড়কে নামছে তাদেরকে ত্রাণ সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তাই রিক্সা চালক থেকে শুরু করে কোন গাড়ী চালক রাস্তায় নামতে পাবেনা। বিশেষ প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হলে দুপুরের পরপর তাদেরকে ঘরে ঢুকে যেতে হবে। এ ব্যাপারে মাইকিং করা হবে। কেউ এ আদেশ অমান্য করে রাস্তায় ঘুরাফেরা করলে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার-নার্স ও চিকিৎসার কাজে যারা নিয়োজিত রয়েছে তাদের সুরক্ষার জন্য পিপিই। সরকারের পাশাপাশি যেসব বেসরকারী প্রতিষ্টান ডাক্তার-নার্সদের জন্য পিপিই দিচ্ছে সেগুলো অবশ্যই স্বাস্থ্য পরিচালকের মাধ্যমে দিতে হবে। তাহলে পিপিই গুলো সঠিকভাবে বন্টন ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহার হবে। জেনারেল প্র্যাকটিশনারদের জন্য বিএমএ কর্তৃক তালিকা করে পিপিই দেয়া যেতে পারে।
সভায় বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য ) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা বেশি জরুরি। আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শুধু করোনা রোগী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডিতে করোনা সনরাক্তকরণ কীট ও সরঞ্জামাদি রয়েছে। এ পর্যন্ত যাদেরকে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের রিপোর্ট নেগেটিভ। সরকারী হাসপাতাল ছাড়াও নগরীর আরো তিনটি বেসরকারী ক্লিনিক/হাসপাতালে ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেয়্ াহয়েছে।
বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. এম এ হাসান বলেন, চট্টগ্রামে করোনা রোগী সনাক্তের জন্য এক হাজার কীট ও সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে। বিআইটিআইডির ল্যাব আর্ন্তজাতিক মানের। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কারো শরীরে করোনা শনাক্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস.এম হুমায়ুন কবির বলেন, প্রত্যেকের নিরাপত্তার প্রয়োজন। করোনা রোগী সনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের পিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, করোনা নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। কোন ধরণের গুজবে কান না দিয়ে করোনা মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের দেয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। সাবান ও পানি দিয়ে ঘনঘন পুরো হাত ধোয়ার পাশাপাশি অ্যালকোহলমুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে তালুসহ হাত পরিস্কার রাখতে হবে। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় হাতের কনুইয়ের ভাঁজে বা টিস্যু দিয়ে নাক ঢাকতে হবে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম বলেন, ডাক্তারদেরকে হাসপাতালে আসা-যাওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে গাড়ীর ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাসহ বিশেষ প্রয়োজন ব্যাতীত মানুষকে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহবান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোঃ সামসুদ্দোহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ হাবিবুর রহমান, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস.এম হুমায়ুন কবির, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য ) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, বিআইটিআইডির পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ হাছান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক নুসরাত সুলতানা, মাউশি’র উপ-পরিচালক প্রফেসর ড. গাজী গোলাম মওলা, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক সুরতান মিয়া, উইম্যান চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেখা আলম চৌধুরী, প্রমূখ। সভায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পড়ে দেখুন

জাফর ওয়াজেদকে চতুর্থবারের মত পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করায় গিরিদর্পন পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ- পিআইবি’র মহাপরিচালক পদে আরও দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক …