শিরোনাম
প্রচ্ছদ / গণমাধ্যম / ২ হাজার ৪ শত ৩৬ কোটি ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

২ হাজার ৪ শত ৩৬ কোটি ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

চট্টগ্রাম ব্যুরো :: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দীন পরিবেশ, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং বাসযোগ্য চট্টগ্রাম নগরী প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ২ হাজার ৪ শত ৩৬ কোটি ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট নগরবাসীর নিকট উপস্থাপন করেন। তিনি আজ সকালে চট্টগ্রাম ক্লাব হল রুমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের শেষ বাজেট ঘোষণায় চট্টগ্রাম নগরীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত প্রদানকালে প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। তাই তাদের যত অভিযোগ ও অনুযোগ এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন একটি মেগাসিটি, স্মার্ট সিটি, নির্মল শহর, নির্মল পরিবেশ বান্ধব শহর নগরবাসীর প্রত্যাশা। সামর্থ্যের মধ্যে সেই প্রত্যাশা পূরণে চসিক নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বীকার করতে হয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যতটুকু সদিচ্ছা আছে ততটুকু আর্থিক সক্ষমতা নাই। তাই আর্থিক সক্ষমতা ছাড়া নগরবাসীর শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ করা যায় না। আর্থিক সক্ষমতা না থাকাতে পৌরকরের উপর নির্ভর করে সকল কর্মকা- পরিচালনা করতে হয়। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হলে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটা করতে হলে আইনী প্রক্রিয়ায় যে সুযোগ আছে সেটা গ্রহণের বিকল্প নেই। আমি সে কারণেই আইনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পৌরকর পুনর্মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটা করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছি এবং প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। এতে চট্টগ্রামই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি আমি সফল হতাম, তাহলে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হচ্ছে তা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হয়ে যেত- ফলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন করা সহজ হতো। তিনি বাজেট বক্তব্যে তাঁর মেয়াদকালীন সময়ে বিভিন্ন কর্মকা-ের চিত্র ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে চট্টগ্রাম নগরকে নিয়ে আকাক্সক্ষা ও স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করে বলেন, এই নগরীতেই আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা। এখানেই আমার অস্তিত্ব ও বসবাস। স্বাভাবিকভাবেই জন্মভূমির প্রতি সবার আকর্ষণ ও দূর্বলতা থাকে। আমিও ব্যতিক্রম নই। দায়িত্ব দায়বদ্ধতার প্রতি আমি শতভাগ অনুগত। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আমৃত্যু মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। তাই এই নগরবাসীর সঙ্গে ছিলাম,আছি এবং আগামীতেও থাকবো। কারণ আমি এই নগরবাসীর কাছে অনেক বেশি ঋণী। এই ঋণ শোধ করার চেষ্টায় থাকবো সর্বক্ষণ। মেয়র হিসেবে আমার মেয়াদের এই শেষ দিনে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি চির ঋণী হয়ে থাকার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করছি-কেননা গত মেয়র নির্বাচনে তিনি আমাকে মেয়র পদে সমর্থন দিয়েছিলেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি প্রিয় নগরবাসীর কাছে, যারা আমাদের পরিষদকে এই নগরীর নাগরিক সেবা ও উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অভিভাবক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সহ উন্নয়নকল্পের দাতা সংস্থা সাংসদ, জনপ্রতিনিধি স্থানীয় রাজনৈতিক, পেশাজীবি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব এবং গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সকলের সম্মিলিত সহযোগে তাঁরাই আমার পথ চলার সারথী ও সাথী। তাঁদের সাথে আমার বন্ধন কখনো ছিন্ন হবে না, বরং সুদৃঢ় হবে। এর পূর্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪ শত ৪৭ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট সাধারণ সভায় পাশ করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের কর্ণধার মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এর বাজেট উপস্থাপনাকালে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য :
হাজার বছরের চট্টগ্রাম ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মহাস্মারক হয়ে আছে পৃথিবীর ইতিহাসে। পাহাড়-সাগর-নদীর উপর গড়ে ওঠা এ-শহর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। বাংলাদেশের সমুদ্র-বাণিজ্যখাতে চট্টগ্রামের অবদানের কথা সকলেই জানেন। অধিকন্তু বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রামও সকল সংকটে জাতিকে উজ্জীবিত করেছে। এখানকার প্রকৃতিই নানান জাতি, শ্রেণি ও পেশার মানুষের সম্প্রীতির বাহন। এজন্য ইতিহাসে চট্টগ্রামের অবদান অবিস্মরণীয়। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের প্রধান নগর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৪১ ওয়ার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লক্ষ নাগরিকের অভিভাবকত্ব করছে। আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৫ম নির্বাচিত পরিষদের ৫ম ও শেষ বাজেট। অধিবেশনের শুরুতে আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। বিন¤্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ইতিহাসের নির্মমতম হত্যাকা-ে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ সকল শহিদদেরও। ৩রা নভেম্বর কারাভ্যন্তরে নিহত শহিদ জাতীয় চার নেতাকেও। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ৫২-এর ভাষা শহিদ যাঁরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদ, ২ লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এ স্বাধীন বাংলাদেশ। আমি সশ্রদ্ধচিত্তে কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে, যাঁর নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ৩০-এ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের ব্যাপক ম্যান্ডেট নিয়ে ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে ৪র্থ মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নবতর উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সম্পৃক্ত করায়। স্মরণ করছি চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রয়াত কীর্তিমান ব্যক্তিদের, যাঁদের মেধা ও শ্রম ব্যয় হয়েছে এ-নগর বিনির্মাণে। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি প্রিয় নগরবাসীর কাছে, যাঁরা আমাদের পরিষদকে এ-নগরের নাগরিকসেবা ও উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন। সে গুরুদায়িত্ব স্মরণ রেখে নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশা ও চট্টগ্রাম মহানগরকে পরিবেশগত, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর প্রতিষ্ঠার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ১ হাজার ৪শত৪৭ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট ও ২০২০-২১ অর্থ বছরের ২ হাজার ৪শত ৩৬ কোটি ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট নগরবাসীর নিকট উপস্থাপন করছি।
রাজস্ব
নগরবাসীর একমাত্র সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নগরবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তাই,নগরবাসীর যত অভিযোগ অনুযোগ এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি। নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। নগরকে একটি মেগাসিটি,স্মার্ট সিটি,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নির্মল শহর এই নগরবাসীর প্রত্যাশা। সামর্থ্যের মধ্যে সে প্রত্যাশা পূরণে চসিক নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বলা যেতে পারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সদিচ্ছা আছে, আর্থিক সক্ষমতা নেই। আর্থিক সক্ষমতা ছাড়া নগরবাসীর শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। আর্থিক সক্ষমতা না থাকাতে পৌরকরের ওপর নির্ভর করে সকল কর্মকা- পরিচালনা করতে হয়। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হলে সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেটা করার জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় যে সুযোগ সেটা গ্রহণের বিকল্প নেই। এখন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ম্যাচিং ফান্ড দিতে হয় তা দেয়ার সক্ষমতা নেই। ম্যাচিং ফা- দিতে না পারলে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা তো কঠিন হয়ে যায়। আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে না। করলেও সেটা অনেকটা স্বপ্ন দেখার মতো। সে কারণেই আইনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পৌরকর পুনর্মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এটা করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। আমার প্রয়াসটা ব্যর্থ হয়েছে। তাতে শেষপর্যন্ত চট্টগ্রামই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি করতে পারতাম তাহলে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হচ্ছে তা দ্বিগুণ বা ত্রিগুণ হয়ে যেত। উন্নয়নকাজ করতে পারতাম। আর্থিক সক্ষমতা না থাকলেও আবার কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো সিটি কর্পোরেশনের একক সিদ্ধান্তে করা যায় না। এ-প্রতিষ্ঠান যেহেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন,সেহেতু সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হয়। যেমন, দায়িত্ব নেয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ উৎসবভাতা এবং নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়। তা কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসনিক ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এটা আমার ওপর চাপ তৈরি করেছে। তার ওপর পূর্বসূরির ২৯৫ কোটি ২৬ লাখ ৯৩ হাজার ১৭৪ টাকা দেনা ছিল। পৌরকর পরিশোধে যাঁরা অক্ষম তাঁদের রিভিউ বোর্ড গঠন করে কমিয়ে দিয়েছি। একেবারে অসহায় অনেককে নামমাত্র এক টাকা, দুই টাকা করে দিয়েছি। বরং যাঁদের দেয়ার সক্ষমতা আছে, আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল, উচ্চবিত্ত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দিলে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি হতো না। দুর্ভাগ্য, বিষয়টি কেউ বুঝতে চেষ্টা করেনি। সিটি কর্পোরেশনকে অবশ্যই আর্থিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তাহলেই নগরবাসীর চাওয়া-পাওয়া বা অঙ্গীকার পূরণ করা যাবে। অন্যথায় সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। অন্যের ওপর নির্ভর করে তো পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব নয়। নগরীর হালিশহরস্থ ফইল্যাতলী বাজারে বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক কিচেন মার্কেট-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ১০-তলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ঠ এ কিচেন মার্কেটটির বেসমেন্টসহ ৩য়-তলা পর্যন্ত নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৭ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা। অর্থ জোগান দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এ নগরীর গুরুত্ব অপরিসীম। দিন দিন শহরের গুরুত্ব বেড়ে চলেছে । তা ছাড়া দক্ষিণ আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। ৩০.৮৪ গ-া জমির উপর বাণিজ্যিক ভবনটি নির্মিত হবে। ১০-তলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২০ কোটি ৬৯ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা।
প্রকৌশল
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এ অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট-এর মাধ্যমে পিচঢালা সড়কের মোট সংখ্যা ১২০২টি। মোট দৈর্ঘ্য ৭০৩ কি. মি. ও গড় প্রস্থ ৭.২০ মি.। কংক্রিট সড়কের মোট সংখ্যা ১১৭৭টি, মোট দৈর্ঘ্য ২৯৩ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ৩.৫৫ মি. । ব্রিক সলিং সড়কের মোট সংখ্যা ২০৩টি, মোট দৈর্ঘ্য ৪২ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ৩.৫০ মি.। কাঁচা সড়কের মোট সংখ্যা ২৩২টি, মোট দৈর্ঘ্য ৩৯ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ৩.৮০ মি.। খালের মোট সংখ্যা ৫৭টি, মোট দৈর্ঘ্য ১৬১ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ৭.২৮ মি.। পাকা নর্দমার মোট দৈর্ঘ্য ৭৩৮ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ১.১০ মি.। কাঁচা নর্দমার মোট দৈর্ঘ্য ২৭ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ১.৪০ মি.। ফুটপাথের মোট সংখ্যা ১৩৮টি, মোট দৈর্ঘ্য ১৬৫ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ১.৮০ মি.। প্রতিরোধ দেওয়ালের মোট দৈর্ঘ্য ৯৪ কি. মি. এবং গড় প্রস্থ ১.২৫ মি.। মোট ব্রিজ ১৯৫টি। গভীর নলকূপ ৪২৩টি, কালভার্ট ১০৩২টি। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের নিজস্ব তহবিল হতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১১৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়। ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৬ কি. মি. নর্দমা হতে মাটি উত্তোলন ও অপসারণ, ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৭ কি. মি. রাস্তা সংস্কার/নির্মাণ, ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৬ কি. মি. ফুটপাথ সংস্কার/নির্মাণ, ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৯টি ভবননির্মাণ/সংস্কার ও ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১২টি নলকূপ স্থাপন ও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। প্রকৌশল বিভাগ-এর কাজকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ৪টি রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ ট্রাক, ১টি পানি বহনকারী ট্রাক, ১টি বিটুমিন বহনকারী গাড়ি, ১টি মোবাইল অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট, ১টি মিলিং মেশিন, ১টি মাটির কম্প্রেশন ভাইব্রেটর, ১টি ট্রাক মাউন্টেড ক্রেন, ১টি শর্ট বুম স্কেভেটর, ১টি লং বুম স্কেভেটর ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এডিপি খাতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৫৩৫.২৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়, যার মধ্যে “বহদ্দারহাট বারইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন” শীর্ষক প্রকল্পে ৮৫১.২৫ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে প্রদান করা হয়। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৫৯ কি. মি. রাস্তা, ৩.২৫ কি. মি. রিটেইনিং ওয়াল, ২৮ কি. মি. ড্রেননির্মাণ, ৮টি ব্রিজ ও ৪টি কালভার্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ৪৯ কি. মি. রাস্তা, ৩.০৫ কি. মি. ড্রেন, ২টি কালভার্ট ও স্কেলেটরসহ একটি ফুটওভার ব্রিজনির্মাণ এবং ৩০.৫০ মি. দৈর্ঘ্যরে একটি পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি ও সড়ক আলোকায়ন শীর্ষক প্রকল্পটির উপ-প্রকল্পসমূহের কাজ বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে চলমান রয়েছে। একনেক কর্তৃক অনুমোদিত ১২২৯.৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে বাস/ট্রাক টার্মিনালের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ১৩০ কোটি টাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে প্রদান করা হয় এবং অন্যান্য ভৌতকাজ চলমান রয়েছে। একনেক কর্তৃক ২৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন “পরিচ্ছন্ন নিবাস নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ১৪-তলাবিশিষ্ট ৭টি ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে ড্রইং ডিজাইন-এর কাজ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ডে সেবক কলোনির কাজ শুরু হয়েছে। তাছাড়া বি.এম.ডি.এফ. ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বিশ্ব ব্যাঙ্কের অর্থায়নে ২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদে বহুতল ভবননির্মাণ এবং ১১ নং দক্ষিন কাট্টলী ওয়ার্ডস্থ ফইল্যাতলী বাজারে বহুতল ভবন ও কিচেন মার্কেট নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। জাইকা সি.জি.পি. প্রকল্পের আওতায় ব্যাচ-১-এ প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা, ব্রিজ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাচ-২-এ প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা-নর্দমা-ব্রিজ, রিটেইনিং ওয়াল, স্কুল ভবন নির্মাণকাজ চলমান আছে। এ ছাড়াও জাইকার অর্থায়নে চলমান সি.জি.পি. প্রকল্পের ব্যাচ-২-এর সংশোধিত প্রকল্প তালিকা অনুসারে ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো ২২টি রাস্তার উন্নয়ন (সড়ক বাতিসহ) কাজ আগামী জানুয়ারি ২০২১ সাল-এর মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও পাথরঘাটা রবীন্দ্র-নজরুল সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, পূর্ব মাদারবাড়ী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, পশ্চিম মাদারবাড়ী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, পাঠানটুলী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, হালিশহর আলহাজ মহব্বত আলী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর আহম্মদ মিয়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার কাজ সম্পাদিত হয়েছে এবং পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে ও নগরের লালদিঘির দক্ষিণ পাড়ে ১২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮-তলা বিশিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সাইক্লোন শেল্টার ও পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৪১টি ওয়ার্ডের সকল রাস্তা ও অলিগলিতে স্থিত পিডিবি পোলে এবং নতুন জিআই পোল স্থাপন করে টিউব, এনার্জি, হাইপ্রেসার ও খঊউ বাতি দ্বারা শতভাগ আলোকায়নকাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। বাতিসংখ্যা আনুমানিক ৫১ হাজার যা ১৫৫৬টি সুইচিং পয়েন্টের মাধ্যমে অন-অফ করা হয়। উন্নত বিশ্বের আদলে ঝসধৎঃ ঈরঃু গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প হিসাবে কাজির দেউড়ি হতে টাইগার পাস সড়কে কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে খঊউ লাইট স্থাপনের মাধ্যমে আলোকায়ন ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয় যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরো ২৭ কি. মি. সড়কে খঊউ বাতি স্থাপন করা হয়েছে যার ব্যয় ৭ কোটি ৯২ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা। সরকারি একটি প্রকল্পের অধীনে নগরীর ৫৬ কি. মি. সড়কে নন-সোলার এবং ২ কি. মি. সড়কে সোলার খঊউ বাতি স্থাপন করা হয়। এই বাতিসমূহে ঈ.গ.ঝ. (সেন্ট্রাল কন্ট্রোল মনিটরিং সিস্টেম) সফটওয়্যার-এর মাধ্যমে অন-অফ এবং মনিটরিং করা হয়। এতে পূর্বের তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নগরীর ৪টি ওয়ার্ডের প্রতি ওয়ার্ডে কম-বেশি ১০ কি. মি. করে ৪৬৬.৭৪ কি. মি. সড়কে ২৬০.৮৯৮৭ কোটি টাকা ভারতীয় লোন (খঙঈ-৩) ও সরকারি অর্থায়নে ২০,৬০০টি খঊউ বাতি এবং আনুষঙ্গিক মালামাল স্থাপনপূর্বক আলোকায়ন সম্পাদনের জন্য একটি প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একনেকে অনুমোদন প্রদান করেন। উক্ত প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বর, ২০২০ সালে বহন করবেন বিধায় কর্পোরেশনের রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। এ ছাড়াও জাইকার অর্থায়নে আনুমানিক ৭৮ কি. মি. সড়কে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে খঊউ বাতি স্থাপন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ও কাজ চলমান রয়েছে। উপরোক্ত সড়ক বাতি সংক্রান্ত কার্যক্রমসমূহ সম্পন্ন হলে প্রতিশ্রুত নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড এলকায় শতভাগ খঊউ বাতি স্থাপনের প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হবে। আগ্রাবাদস্থ সিঙ্গাপুর-ব্যাঙ্কক মার্কেটটি ১১-তলায় উন্নীত করা হবে। এখানে ২৪ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১-তলা থেকে ৫-তলা পর্যন্ত সেন্ট্রাল এসি, ৫-তলায় ফুডকোর্ট, সিনেপ্লেক্স ও কিড্স জোন করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির অর্থায়নে ২৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভবনটি ৬ থেকে ১১-তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আই.টি. ভিলেজ-এ রূপান্তরিত করা হবে। বি.এফ.আই.ডি.সি. রোডসংলগ্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর ১১.৫৫১ একর বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত ৪ বছরে নগরীর প্রতিটি সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৫ হাজার ৬ শত ১৬ কোটি টাকার ১টি মেগা প্রকল্প সি.ডি.এ.-কে অনুমোদন দিয়েছেন, যার বাস্তবায়ন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছেÑ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে। দৃষ্টিনন্দন হবে আমাদের প্রিয় নগর চট্টগ্রাম। ওয়াটার এইড ও কিমবার্লিও অর্থায়নে নগরীর কে.সি.দে রোডস্থ টিএন্ডটির দেয়ালের বাইরে ও লালদিঘির উত্তর পার্শ্বে, অক্সিজেন, বিবিরহাট ও নতুন ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গোসলখানা, লকার রুম, সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীদের বিশেষ সুবিধা সংবলিত ৫টি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

শিক্ষা
শিক্ষা মানুষকে মানুষের অন্তর্নিহিত সুপ্ত প্রতিভা, মেধা ও বুদ্ধিকে বিকাশ করে। এটি মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে। বিবেচনাশক্তি উদ্ভাবনক্ষমতা ও সৃজনশীলতাকে উদ্বুদ্ধ করে। শিক্ষাই একজন মানুষকে মনুষ্যত্বের গুণাবলি সমৃদ্ধ করে এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভুমিকা পালন করে। মেধা ও জ্ঞানে গড়বো সোনার বাংলা’। সন্তানদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। সন্তানেরা যাতে মেধার অবমূল্যায়ন করে কোনো উগ্রকাজে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দেখে নগরীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত হবে। সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে সমাজে ছেড়ে দিতে পারাটাই মা-বাবার সার্থকতা। মেধা, মনন, মানসিকতা সমন্বয় করে সন্তানদের ভবিষ্যৎনির্মাণে উৎসাহ জোগাতে হবে। সন্তানদের শুধু পড়ালেখায় চাপ দিলে চলবে না, তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে হবে। মা-বাবাকে বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে। মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে গেছে। মাদকের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ফেসবুক যেন আজ নতুন নেশা। কচিকাঁচা শিক্ষার্থীরাও নেশাগ্রস্ত। তারা না ঘুমিয়ে ফেসবুকিং করে। ছেলে-মেয়েদের ব্যাপারে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরো সজাগ-সতর্ক হতে হবে। সন্তানদের মোবাইল নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় বড় ধরনের বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। শাসন-সোহাগে সন্তানদের বেড়ে তুলুন। নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখতে হবে।
শিক্ষাখাতে প্রতি বছর ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন ৪২ কোটি টাকা ছিল। এখন দিতে হচ্ছে ৩৬ কোটি টাকা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতি ছিল না, এমপিও ছিল না। এ ছাড়া অনেক সমস্যা ছিল। সেগুলো সমাধান করেছি। আমি দায়িত্ব নিয়ে ৬টি স্কুল ও ৩টি কলেজের এমপিও, ৭টি স্কুল-কলেজে কলেজ শাখার স্বীকৃতি ও ৩টি কলেজের স্কুল শাখা থেকে কলেজ শাখা পৃথকীকরণ প্রক্রিয়াধীন আছে। ২০টি কলেজে নতুন ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও মেরামত কার্যক্রম চলমান আছে। ২০ প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবননির্মাণ করা হয়। ১১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কারকাজ চলমান আছে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ৯৪ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপকে পদোন্নতি দিই। সংকট নিরসনে শিক্ষক নিয়োগ দিই। ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দিই। অ্যাডুকেশন ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করেছি। প্রতিবছর ২০০ শিক্ষার্থীতে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। কোর্ট বিল্ডিংসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াইফাই জোন করেছি। ‘হোল্ডিং ট্যাক্স’, ‘এস্টেট ম্যানেজমেন্ট’, ‘অনলাইন ফাইলিং’ এবং ট্রেড লাইসেন্সকে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘অনলাইন ব্যাঙ্কিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলো পুরোপুরি অনলাইননির্ভর হলে নাগরিকরা ঘরে বসেই কাক্সিক্ষত সেবাগুলো পাবেন। এতে সেবা প্রত্যাশী লোকজনের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ম্যানুয়েলপদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরেরও সহযোগী হবে সিটি কর্পোরেশন। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে। সিঙ্গাপুর-ব্যাঙ্কক মার্কেটে ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’-নির্মাণ ও কালুরঘাট বিএফআইডিসি রোডের জায়গায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। ২০১৭ সালের ২৪-এ এপ্রিল থেকে নগরবাসীর নাগরিক-সেবা দ্রুততর করার লক্ষ্যে ‘কল সেন্টার’ চালু করি। কল সেন্টারের হান্টিং নম্বরে সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যেকোনো মুঠোফোন থেকে ডায়াল করেই নাগরিকসেবা সংক্রান্ত তথ্য, অভিযোগ বা পরামর্শ দিতে অসুবিধা হয় না। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে ১টি বিশ্ববিদ্যালয়, ২টি কলেজে অনার্স কোর্স চালুসহ মোট ৮টি ডিগ্রি কলেজ, ৭টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, ৮টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি কিন্ডারগার্টেন, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, ৫টি কম্পিউটার কলেজ(ক্যাম্পাস), ১টি থিয়েটার ইনস্টিটিউট, ১টি কারিগরি ইনস্টিটিউট, ৩৫০টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ৮টি জামে মসজিদ, ২টি এবাদতখানা, ৪টি সংস্কৃত টোলসহ কতিপয় বিশেষ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। তা ছাড়া বর্তমানে ১টি ডিগ্রি কলেজ ও ২টি উচ্চ-মাধ্যমিক কলেজ অধিগ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্ন
পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় এক হাজার ৩৩৯টি ডাস্টবিন ও ডাম্পিং স্টেশন ছিল। সেটা ২৫০-এ কমিয়ে এনেছি। নগর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য ২ হাজার ডোর-টু-ডোর সেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ডাস্টবিনমুক্ত নগর ও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে চসিক। তাই এ-শহরকে শত ভাগ পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নগরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।
একসময় ২৪ ঘণ্টা এসব স্পটে ময়লা পড়ে থাকত। সেটা এখন নেই। এটা একটা অর্জন। আবার এসব ডাম্পিং স্টেশন থেকেও দ্রত সময়ের মধ্যে ময়লা অপসারণ করছি। একসময় দিনের বেলা ময়লা অপসারণ করা হতো। এতে পথচারীদের অসুবিধা হতো। সেটা আমরা রাতে নিয়ে এসেছি। ডোর-টু-ডোর কার্যক্রমের মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করেছি। এজন্য বিনামূল্যে নয় লক্ষ বিন বিতরণ করেছি। সবগুলো মিলিয়ে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে। ‘‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকুন’’। ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে নগরবাসীর মধ্যে জনসচেতনা সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মশা-মাছির উপদ্রব এবং মশা উৎপত্তিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ ছিটানোর ক্রাশ প্রোগ্রাম, মাইকিং, প্রচারপত্র বিলি, পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে সচেতনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং নালা-নর্দমা পরিস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।ভারী বর্ষণ কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাড়ির আশপাশ, ফুলের টব, আবর্জনা ফেলার পাত্র, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম,মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, ব্যাটারি শেল, পলিথিন,চিপসের প্যাকেট এবং নালা-নর্দমায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার প্রজননের স্থান। বর্যাকালে কোনো পাত্রেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। তার ওপর বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে তাও পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। জমে থাকা পানি ছাড়া এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় ডিএসকে, ওয়াটার এইড কিমবার্লি ক্লাক-এর যৌথ উদ্যোগে নগরীর কে.সি.দে রোড, লালদিঘির পাড়, জেল গেটসংলগ্ন রাস্তার পাশে, অক্সিজেন মোড়, বিবির হাট গরুর বাজার, শাহআমানত সংযোগ সড়ক, কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও ২নং গেট শেখ ফরিদ মার্কেটে নারীবান্ধব পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, লকারসহ ইত্যাদি সুবিধা সংবলিত আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। সামর্থ্যের মধ্যে বছরব্যাপী এ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। মশার প্রজনন ধ্বংসের জন্য এডালটিসাইড ও লার্ভিসাইড ঔষধ ক্রয়ে ২০ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে ইতোমধ্যে পত্র দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ
স্বাস্থ্যখাতে অনেকগুলো স্বাস্থ্য কেন্দ্র আধুনিকায়ন করেছি এবং সেবার মান বৃদ্ধি করেছি। আলকরন ওয়ার্ডস্থ জেনারেল হাসপাতালে প্রতিবন্ধী কর্নার, দন্ত ও চক্ষু বহিবিভাগ ও হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ম্যাটস কোর্স চালু করেছি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করেছি। বহির্বিভাগে রোগীদের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে ১০ টাকা করেছি। জেনারেল হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু প্রক্রিয়াধীন আছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় ৫টি মাতৃসদন হাসপাতাল, ৫৬টি চসিক দাতব্য চিকিৎসালয় ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ১টি হেলথ টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যাটস্, ১টি মিডওয়াইফারি ইনিস্টিটিউট এবং মা ও শিশু জীবন রক্ষায় ইপিআই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩৩৪টি স্থায়ী, অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। উক্ত মাতৃসদন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৫০ জনের অধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ কর্মরত রয়েছেন। এসমস্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা নির্ণয়,ডায়াবেটিক পরীক্ষা, খতনা, গরিব দুস্থ শিশু-কিশোরীদের নাক- কান ছেদন , মেডিক্যাল চেক-আপ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা প্রদান করবে। নগরীর হত- দরিদ্র জনগোষ্টীর স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে চালু করেছি “মেয়র হেলথ কেয়ার কার্ড”। এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১ হাজার সুবিধাবঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবার এবং পরিবারের সকল সদস্য সারা বছর বিনামূল্যে কর্পোরেশনের মাতৃসদন হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎসালয় ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে সর্বপ্রকার চিকিৎসাসেবা ভোগ করতে পারবে। এ-স্বাস্থ্যসেবায় বছরে চসিকের ব্যয় হবে প্রায় ২৬ কোটি টাকা। যার মধ্যে শুধুমাত্র মেডিসিন বাবদ ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম নগরীতে ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে নগরীর প্রায় ২লক্ষ হতদরিদ্র মানুষ চিকিৎসা সেবার সুযোগ পাবে। নগরীর হতদরিদ্র মানুষ যাতে তাদের জীবনধারণের মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে চসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিবিধ বিষয়ে কাজ করছে। ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকায় এ কসাইখানা নির্মিত হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮৮ শতক জায়গায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় দেশের এ সর্বাধুনিক কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।নগরে নির্ধারিত চসিকের কসাইখানায় পশু জবাই না করে যত্রতত্র পশু জবাই করা হয়। পশু জবাই-এর শৃঙ্খলা আনয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ কসাইখানা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্কতা ও সচেতন হতে হবে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি,তাই এটি প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ইতোমধ্যে মাইকিং, বিজ্ঞপ্তি প্রচার, লিফলেট বিতরণ, জীবাণুনাশক পানি ছিটানো, কন্ট্রোল রুম স্থাপন, জরুরি প্রয়োজনে চসিকের হাসপাতাল প্রস্তুতরাখাসহ বিভিন্ন সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি নগরবাসীসহ সবাইকে করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে চাল বরাদ্দ দিয়েছেন, যা ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এ ভোগ্যপণ্যসমূহ যাতে সঠিক ও অসচ্ছল মানুষের হাতে যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এরই অংশ হিসেবে এল.আই.পি.ইউ.সি.-এর সহযোগিতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ১ লক্ষ অসচ্ছল পরিবারের মাঝে হাত ধোয়ার সাবান, বালতি ও মাস্ক বিতরণ-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেএনআরবি ব্যাংক লিমিটেড চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছেন। তার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে করোনাভাইরাস পরীক্ষাগারের চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য ৩ শত ৫০ পিস পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) প্রদান করেছি। চিকিৎসকবৃন্দ এ যুদ্ধের অগ্রবর্তী বাহিনী। সকল চিকিৎসক সমাজসহ এ করোনা চিকিৎসাসেবায় যাঁরা নিয়োজিত থাকবেন তাঁদের সুরক্ষার বিষয়টি যাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনানুযায়ী পরিচালিত হয় সে ব্যাপারে আমরা সচেতন। তাই চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত সকল চিকিৎসকদের এ দুর্যোগকালীন মুহূর্তে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। দিন দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বেও করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রমকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডস্থ সিটি কনভেনশন সেন্টারে চসিকের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে নির্মিত ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে।

অটিজম
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধীরা যাতে অবহেলিত না হয় সেদিকে সকলকে সুদৃষ্টি রাখতে হবে। পরিমিত পরিচর্যা, স্কুলভিত্তিক প্রশিক্ষণ, সঠিক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনে সঠিক ঔষধ ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুর অটিজমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেকখানি সহায়ক। চলতি অর্থ বছরে এ-খাতে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রোগের চিকিৎসা চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক শ্রেয়। অটিজম আক্রান্তরা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে । আর সমাজে তাঁদের একটা সুন্দর স্থান করে দিতে সমাজের প্রতি আহ্বান জানাই । চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রতিবন্ধী যুবকদের কর্মসংস্থান প্রদান করছে। এছাড়া নবনির্মিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবনটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী প্রতিবন্ধীবান্ধব ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে এবং প্রতিবন্ধী যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি সকলের সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করি।

মাদক
মাদককে সমাজ থেকে নির্মূল করা গেলে সন্ত্রাসও নির্মূল হবে।দেশের উন্নয়নধারা অব্যাহত এবং আমাদের প্রজন্মদেরকে মাদকসেবন থেকে দূরে রাখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকবিরোধী নানারকম কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। সামাজিক বৈষম্য, ব্যাভিচার, মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদসহ সকলপ্রকার অপরাধমূলক কর্মকা- থেকে মুক্তি পেতে হলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে।

সৌন্দর্যবর্ধন
চট্টগ্রাম নগরকে পরিকল্পিতভাবে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে পুরো নগরীর ফুটপাথ, আইল্যান্ড,মিডিয়ানসহ সবুজায়নে আচ্ছাদিত করা হবে। এ-বিযয়ে নগরবাসীকে সচেতন করতে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি। কাজির দেউড়ি, আউটার স্টেডিয়াম এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের অবাধ বিচরণস্থল। ময়লা আবর্জনা স্তূপ করে থাকতো এখানে। ইতোমধ্যে এ এলাকায় সুইমিং পুল,আউটার স্টেডিয়ামের ফুটপাথ সৌন্দর্যবধর্ন প্রকল্প আওতায় এ প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে স্টেডিয়ামের চারিদিকে নয়নাভিরাম দৃশ্য পরিলক্ষিত হবে, যা যেকোনো অতিথিকে আকর্ষণ করবে। আউটার স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে মাঠের চারিদিকে ড্রেন,ওয়ার্কওয়েনির্মাণ, সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনার জন্য মুক্তমঞ্চ নির্মাণসহ নানামুখী কাজ করা হবে। এখানে গ্যালারিনির্মাণ, বসার ব্যবস্থা,সবুজায়নসহ এস.এস.খালেদ রোড থেকে নেভাল অ্যাভিনিউ রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়কনির্মাণ করা হবে । ইট-পাথরের ব্যস্ত ও কর্মক্লান্ত নগরজীবনে নাগরিকদের কিছুটা হলেও অবসর ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে এখানে। বন্দরনগরীতে এমনিতেই মানুষের চিত্তবিনোদনের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। নান্দনিক এ প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মক্লান্ত নগরজীবনে কিছুটা হলেও চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোডকে নান্দনিক সাজে সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে এ সড়কে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ রোডের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। কাজের মধ্যে রাস্তার দৃষ্ঠিনন্দন ফুটপাথ, রাস্তার পাশে সৌন্দর্যকরণ,চার লাইনে রাস্তা নির্মাণ চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিউটিফিকেশন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নৌকার ওপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরাল।নগরীকে গ্রিন সিটিতে পরিণত করায় শহরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কের মিড-আইল্যান্ডগুলোতে পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন পরিত্যক্ত খোলা জায়গা ও সড়ক দ্বীপকে দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ বাগানে পরিণত করা হয়েছে যা সৌন্দর্যবর্ধনের সাথে সাথে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। সমন্বয়হীনতা একটা বড় সমস্যা ছিল। শহরে যেসব সেবাসংস্থা আছে তাদের মধ্যে সমন্বয়টা অপরিহার্য। সমন্বয়টা তখনই নিশ্চিত হবে যখন সেবাসংস্থাগুলো পরিকল্পনা গ্রহণের আগে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করবে এবং সম্মতি নেবে। এতে প্রকল্পে ওভারলেপিং হবে না। কিন্তু তা করা হয় না। যেমন, জলাবদ্ধতা প্রকল্প। আমরা খুব চেষ্টা করেছি, সার্ভে ও ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি। কিন্তু হুট করে সিডিএ প্রকল্প নিয়েছে। তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে এনওসি নেয়নি এবং অবহিতও করেনি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর শোভাবর্ধনে “প্রবর্তক মোড় হতে গোল পাহাড় মোড়” পর্যন্ত মিড-আইল্যান্ড, উভয় পার্শ্বের ফুটপাথ, গোলচত্বরসহ প্রায় ৪৫০ মিটার এলাকাজুড়ে সম্পূর্ণ আধুনিকায়নের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন এবং জনসাধারণের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। এ পরিকল্পনায় প্রবর্তক গোলচত্বরে স্কালপচার টাওয়ার স্থাপন, মিড-আইল্যান্ড ও ফুটপাথের ল্যান্ডস্কেপিং, গোলপাহাড় মোড় থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত রাস্তার পার্শ্বে সীমানা প্রাচীরের মুরাল/ গ্র্যাফিটি তৈরিকরণ, আলেকসজ্জা ব্যবস্থাসহবসার জায়গা, আধুনিক গণশৌচাগার (প্রতিবন্ধীবান্ধব) এবং পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক টয়লেট ব্যবস্থাসহ ওয়াশ-রুম, ইউরিন্যাল ইউনিট। এ ছাড়াও পর্যটনসেবা স্টল, যাত্রী ছাউনি ইত্যাদি নাগরিক সুবিধার কথা পরিকল্পনায় রেখে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে একটি উন্মুক্ত উদ্যান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এই উদ্যান নির্মাণ করবে রিফর্ম লি. এবং স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লি.। নগরীর ষোলশহর ২ নং গেটস্থ এ বিপ্লব উদ্যানকে বেছে নিয়েছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান। দুই একর জমি নিয়ে এই বিপ্লব উদ্যান প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়ন প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে “সোল স্কয়ার” বা “প্রাণের স্পন্দন”। সম্পূর্ণ আউট সোর্সিং-এর মাধ্যমে এ উন্মুক্ত পার্কটির কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। শিশুবান্ধব নগরী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডস্থ শহিদ শাহজাহান মাঠসংলগ্ন স্থানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত মনোরম পরিবেশে “শেখ রাসেল শিশু পার্ক” নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

টাইগারপাস থেকে দেওয়ান হাট ওভার ব্রিজ পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নগরীর বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন সড়ক, জি.পি.ও. এবং শাহ আমানত শপিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ১ দশমিক ৭ কি. মি. দীর্ঘ রাস্তার মিড আইল্যান্ড এবং ফুটপাথের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্ক্রিপ্ট এবং অডিওস ইঙ্ক-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয় যার মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনি, মানসম্পন্ন আধুনিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন, বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে তা ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হবে।
বৃক্ষ
বৃক্ষ বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, আর পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে বেশি বেশি করে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমাদের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালাতে হবে।
গাছপালা ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। বৃক্ষ যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৃদ্ধিকারক, তেমনি আবার পরিবেশ সংরক্ষণেরও সজীব প্রতীক। প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সবুজায়ন কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ছাদবাগান কর্মসূচি, রাস্তার পাশে গাছের চারা রোপণ, বনায়নসহ নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে। এ লক্ষ্যে নগরের পতিত জায়গায়, বাড়ির ছাদে বনজ, ফলজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন গাছ রোপণের আহ্বান জানাচ্ছি।
ইনোভেশণ
স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ইনোভেশন শোকেসিং কর্মশালা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৪টি ওয়াসা এবং৪টি পৌরসভা অংশগ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও পৌরসভা তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শন করে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শন করে। এউদ্যোগসমূহের মধ্যে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ, আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে নগরীর গোলচত্বর, সড়কদ্বীপ, স্কুল-কলেজের সীমানা প্রাচীর ও পরিত্যক্ত স্থানে মুরাল ভাস্কর্য, ঝরনা/ ফোয়ারা, বৃক্ষরোপণ ও বাগান করার মাধ্যমে নগরীর সৌন্দর্যবৃদ্ধি, ইনটারেক্টিভ ওয়েব পোর্টাল, স্মার্ট ড্যাশবোর্ড ও ওয়েব রিপোর্টিং টুলস প্রণয়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স অটোমেশন, নিজস্ব কল সেন্টার (১৬১০৪) চালুকরণ, মোবাইল অ্যাপস প্রণয়ন, অনলাইন সনদপত্র অটোমেশন, স্পট ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও সড়ক কর্তনের অনুমতি প্রদানে ওয়ানস্টপ সার্ভিস।

মুুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা
আপনারা জানেনÑ মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আজীবন বাংলার মানুষ এই বীর সন্তানদের বিন¤্রচিত্তে স্মরণ করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ জাতি কোনো সংবর্ধনা-সম্মাননা দিয়ে শোধ করতে পারবে না। তবুও দায়িত্ববোধ থেকে এ-বছর স্বাধীনতা সম্মাননা স্মারকে ভূষিত হন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনেÑ সাবের আহমদ আসগরি, সাংবাদিকতায়Ñ অঞ্জন কুমার সেন, শিক্ষায়Ñ প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বÑ আহমদ ইকবাল হায়দার, চিকিৎসায়Ñ প্রফেসর এল. এ. কাদেরী, নারী আন্দোলনেÑ ফাহমিদা আমিন (মরণোত্তর), সমাজসেবায়Ñ সাইফুল আলম মাসুদ এবং ক্রীড়ায়Ñ অ্যাডভোকেট শাহীন আফতাবুর রেজা চৌধুরী। এ ছাড়াও সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা চিন্তা করে তাদের জন্য আবাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১টি ভবন হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরো ২টি ভবন হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে। চলতি অর্থ বছরে এÑখাতে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক মুক্তিকে মূল লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এখনো অনেকের কাছে অজানা। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে মুক্তিযোদ্ধাদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা,মানসিকতাও সাহসিকতা নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তা যেন কোনোভাবে বিনষ্ট না হয়। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানেরা যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবহির্ভুত কোন কর্মকা-ের সাথে জড়িয়ে না পড়ে এ বিষয়ে আপনাদের গুরুত্ব সহকারে দায়িত্বপালন করতে হবে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাকা বাড়ি তৈরি করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তজ্জন্য একটি প্রকল্প গ্রহন করি। প্রকল্পের নাম ‘‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্প’’। এ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীণ মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহনির্মাণ করে দেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নগর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি যাচাই – বাছাই করে ৫০জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ৫বছরের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । তাই গৃহহীন এ মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহনির্মাণের জন্য আনুমানিক ১৩ কোটি টাকার একটি প্রাক্কলিত বার্জেট প্রস্তুত করে এবং তা আনুমোদন করে চসিক নির্বাচিত পরিষদ। ১০নং উত্তর কাট্টলীস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ ইলিয়াছ-এর বসতভিটায় “বীর মুক্তিযোদ্ধা ভবন” উদ্বোধন করা হয়। ওই তারিখ থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে “বীর মুক্তি ভবন”এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্যদেরকে গৃহনির্মাণ করে দেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। দেশের সিটি কর্পোরেশন সমূহের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনই নগরীর গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহনির্মাণ করে দিচ্ছে। সাড়ে ৯ শ বর্গফুট বিশিষ্ট এ গৃহনির্মান করতে চসিকের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক সাড়ে ২৬লক্ষ টাকা। এরই ধারাবাহিক ৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, ২৫নং রামপুরা ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা নুর আহম্মদ এবং ৪নং চাঁন্দগাও ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দিন এবং গৃহ নির্মানের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এবছর স্বাধীনতার ঘোষণাপাঠকারী মরহুম এম.এ.হান্নান, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারসহ ১৭৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা ও সম্মানির টাকা তুলে দেয়া হয়। এছাড়া ঘরের চাবি তুলে দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের হাতে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দুই বছর ১৫০ জন করে, পরের দুই বছর ১৭০ জন করে এবং এবছর ১৭৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা যে লক্ষ ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলসে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

একুশে পদক
একুশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে। এটি চির অম্লান হয়ে থাকবে। এ-ভাষা যত বেশি অন্তরে ধারণ করবো, লালন করবো, আন্তর্জাতিকভাবে তত বেশি বাংলাভাষার গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান ও মর্যাদা বাড়বে। তাই একুশের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে সমাজ, দেশ, ও জাতি গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এ-বছর ১১জনকে একুশে সম্মাননা ও ৪জনকে একুশে সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সিজেকেএস জিমনেসিয়ামে মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলা-২০২০ চট্টগ্রাম মঞ্চে এ অমর একুশে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণিজনেরা হলেন ভাষা আন্দোলনেÑ আবু তালেব চৌধুরী (মরণোত্তর), শিক্ষায়Ñ অধ্যক্ষ এএফএম মোজাফ্ফর আহমদ (মরণোত্তর), চিকিৎসাসেবায়Ñ প্রফেসর সৈয়দা নুরজাহান ভূঁইয়া (মরণোত্তর), স্বাধীনতা আন্দোলনেÑ শহিদ হারুনুর রশীদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধেÑ মোহাম্মদ হারিছ, সাংবাদিকতায়Ñ আখতার-উন-নবী (মরণোত্তর), সংগঠক- প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, সংগঠকÑ বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, ক্রীড়ায়Ñ সিরাজ উদ্দিন মো. আলমগীর, সংগীতে- ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশ, সমাজসেবায়Ñ সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিটকে একুশে সম্মাননা স্মারক এবং কথাসাহিত্যে(অনুবাদ)Ñ ড. মাহমুদ-উল-আলম, প্রবন্ধ, গবেষণায়Ñ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কবিতায়Ñ ওমর কায়সার ও শিশুসাহিত্যেÑ আকতার হোসাইন ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসমূহ
আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্মার্ট সিটি প্রকল্প, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে মেট্রো রেল নির্মাণ, মাস্টার প্ল্যানের সুপারিশমতে প্রস্তাবিত নতুন সড়ক নির্মাণ, মুরাদপুর, ঝাউতলা, অক্সিজেন ও আকবর শাহ রেলক্রসিং-এর উপর ওভারপাস নির্মাণ, ঢাকামুখী ও হাটহাজারীমুখী বাস টার্মিনাল নির্মাণ, কন্টেইনার ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ওভারপাস/আন্ডারপাস নির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জায়গায় স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ, নগরীর কাঁচা বাজারগুলিকে আধুনিকায়ন, বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ, ওয়ার্ডভিত্তিক খেলার মাঠ, শিশু পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, মিলনায়তন, ব্যায়ামাগার ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে আধুনিক কনভেনশন হল নির্মাণ, নগরীতে জোনভিত্তিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে চসিকের।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। এ-শহরেই বাস করছি। স্বাভাবিকভাবে জন্মভূমির প্রতি সবার আকর্ষণ ও দুর্বলতা থাকে। আমিও ব্যতিক্রম নই। দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতাও আছে। মানুষের ভালবাসা নিয়ে আজীবন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। এ-নগরবাসীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকবো। এ নগরবাসীর কাছে আমি অনেক বেশি ঋণী। বেঁচে থাকলে এ ঋণ শোধ করার চেষ্টায় থাকবো সর্বক্ষণ। আগামী ৪ঠা আগস্ট মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হবে আমার। গত মেয়র নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আমি চির-ঋণী। পরিশেষে, আমি কর্পোরেশনের সার্বিক কর্মকা- সম্পর্কে আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি এবং বাজেট প্রণয়নের সাথে জড়িত স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনের শুরুতে শোকাহত আগস্ট মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্য,জাতীয় চারনেতা ও অন্যান্য শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতসহ তাঁদের সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও করোনা মহামারীকালে যে সকল সম্মানিত নাগরিক, করোনা মোকাবেলায় সম্মুখ যোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতা, কর্মী এবং সাধারণ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
চসিকের আজকের বাজেট অধিবেশন পরিচালনা করেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। এই সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জোবাইরা নার্গিস খান, প্রফেসর ড.নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, অর্থ ও সংস্থাপন কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন, চসিক কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, স্পেশাল ম্যাজেস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা সাহেদা বেগম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ।

পড়ে দেখুন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

॥ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের …